সমুদ্র থেকে পুনরায় লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা আফ্রিকান অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: ARCHIVE/ANSA/ZUHAIR
সমুদ্র থেকে পুনরায় লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা আফ্রিকান অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: ARCHIVE/ANSA/ZUHAIR

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, ২০২১ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় ৩২ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে আটক বা উদ্ধার করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়৷ ২০২০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেশি৷

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-(আইওএম) এর তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ৩২ হাজার ৪২৫ জনকে সমুদ্রের লিবিয়া উপকূল থেকে আটক অথবা উদ্ধার করে ফেরত আনা হয়৷

আইওএম এর হিসাবে ২০২০ সালে ১১ হাজার ৮৯১ জনকে সমুদ্র থেকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল৷ অর্থাৎ, এক বছরে এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ 


গত বছর আটক বা উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসীদের মধ্যে এক হাজার ৩০৮ জনই ছিলেন ১৮ বছরের কম বয়সি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ একই বছর, মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৬৫৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে এবং ৮৯৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আইওএম৷

২০২২ সালে লিবিয়ার জন্য নেয়া মানবিক সাহায্য পরিকল্পনায় জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সহায়তা বিষয়ক দপ্তর (ওএইচসিএ) জানিয়েছে, ২০২১ সালের প্রথমার্ধে উপকূল থেকে আটক করা অভিবাসীর সংখ্যা ২০২০ সালের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি৷ যার ফলে মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে৷’’ 

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে লিবিয়ার উপকূল থেকে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার উদ্দেশে যাত্রার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০২ সালের অক্টোবরে লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর হওয়ার পর থেকে সেখানে অভিবাসীদের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে৷ লিবিয়ার বিভিন্ন কারাগারে বা সরকারি আটক কেন্দ্রে তারা মানবেতরভাবে জীবন কাটাচ্ছেন৷ সেখানে আটকে পড়া অভিবাসীরা নিয়মিত স্থানীয় মিলিশিয়া ও পাচারকারীদের সহিংস আচরণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন৷ যেকারণে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে৷ 

সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর, রাজধানী ত্রিপোলির ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-আলুস সমুদ্র সৈকত থেকে অভিবাসীদের ২৮টি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় রেড় ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।



এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন