(ফাইল ছবি) পোল্যান্ড বেলারুশ সীমান্তের কুজনিকা ব্রুজস্কি পয়েন্টে কাঁটাতারের সামনে টহলরত পোলিশ সৈন্যদের একটি দল। ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ছবি) পোল্যান্ড বেলারুশ সীমান্তের কুজনিকা ব্রুজস্কি পয়েন্টে কাঁটাতারের সামনে টহলরত পোলিশ সৈন্যদের একটি দল। ছবি: রয়টার্স

বেলারুশ সীমান্তে অভিবাসন সংকটি কাটাতে এবং ইইউ সীমান্ত রক্ষা করতে খুব শীঘ্রই সীমান্তের চারটি পয়েন্টে কংক্রিটের দেয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ড। ইতিপূর্বে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করে চলমান সংকটি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেছিল পোল্যান্ড।

গত বছরের শেষ দিক থেকেই সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল পোলিশ সরকারের। অবশেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তটি। 

মঙ্গলবার ৪ জানুয়ারি, পোল্যান্ড সরকারের মুখপাত্র ম্যাকিয়েজ ওয়াসিক এবং ডেপুটি বর্ডার গার্ড কমান্ডার উইওলেটা গর্জকোস্কা নিশ্চিত করেছেন, “বেলারুশ সীমান্তে প্রাচীর তৈরি করা হবে। এটি ১৮৬ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ হবে এবং চারটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “যত দ্রুত সম্ভব প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করতে ইতিমধ্যে জন্য নির্মাণ সংস্থাগুলির সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।” 


স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ব্লাজেজ পোবোজি টুইটারে বলেন, “সীমান্তে প্রতিদিনের ঘটনা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের আগ্রহী করে তুলছে। বেলারুশের গ্রোডনোতে সীমান্তে এখনও কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী আটকে যাদেরকে পোলিশ সীমান্তের দিকে নিয়ে আসা হতে পারে।”

প্রস্তাবিত কংক্রিটের দেয়ালটি মূলত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সীমান্তে নির্মিত কাঁটাতারের বেড়ার জায়গায় প্রতিস্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি ইতিপূর্বে সীমান্তে মোতায়েন করে হয়েছে হাজারো সৈন্য ছাড়াও, বেলারুশের থাকা সীমান্ত এলাকায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এমনকি পোলিশ সংসদে বিল পাশ করে সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পুশব্যাককে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিরোধী এরকম বহু পরিকল্পনা নেয়া সত্ত্বেও, অভিবাসীদের ছোট ছোট দল নিয়মিত বেলারুশ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে। যেমন অক্টোবরে, প্রায় ১৫ জন অভিবাসী সীমান্তের উসনারজ গর্নি নামক একটি গ্রামের কাছে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকা পড়েছিল। তারা যাত্রা পথে একটি গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পোলিশ সীমান্তরক্ষীরা দ্রুত এসব অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে কাঁদাযুক্ত পথে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের উপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

এই ঘটনার এক মাস পর, প্রায় ২০০ অভিবাসীর একটি দলকে চেজেরেমচা গ্রামের কাছে আটক করা হয়েছিল। 

পোলিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র আনা মিচালস্কা রয়টার্সকে বলেছন, “তারা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। তারা দায়িত্বরত সৈন্যদের উপর গাছের ডালপালা এবং পাথর নিক্ষেপ করলেও আমাদের সৈন্যরা তাদের এই চেষ্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। অভিবাসীদের মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত পাঁচজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।”

১৩ ডিসেম্বর, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ সহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সাথে বৈঠকের পর, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি বলেন, “সকলেই ইইউ এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকবে।”

২০২১ সালের গ্রীষ্ম থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে কমপক্ষে ১৪ জন অভিবাসী মারা গেছে। অপরদিকে বেলারশের সাথে শুরু হওয়া সংকটের পর থেকেই নিজেদের বহিঃসীমান্ত রক্ষা করতে সংগ্রাম করছে পোল্যান্ড। 



এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন