জার্মানির বিটবুর্গ শহরে প্রাথমিক নিবন্ধন আশ্রয়কেন্দ্রে সন্তান কোলে এক নারী৷ ফটো: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/এইচ টিটেল
জার্মানির বিটবুর্গ শহরে প্রাথমিক নিবন্ধন আশ্রয়কেন্দ্রে সন্তান কোলে এক নারী৷ ফটো: পিকচার-অ্যালায়েন্স/ডিপিএ/এইচ টিটেল

জার্মানিতে ২০২১ সালে সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশনের আওতায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় আসার হার অনেক কমেছে৷

জার্মানিতে সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশনের সুবিধাপ্রাপ্তরা এক বছর থাকার অনুমতি পেয়ে থাকেন৷ আইন অনুযায়ী, থাকার এ সুবিধা আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তির নিজ দেশের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য বাড়ানো যেতে পারে ৷ 

সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশনের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি জার্মানিতে কাজের সুযোগ এবং কাজ না থাকা অবস্থায় বেকার ভাতা এবং চাকরি খুঁজে পেতে সহযোগিতা পেয়ে থাকেন৷ তবে তারা শরণার্থীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মতো অন্য দেশে ভ্রমণের সুযোগ পান না৷ 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রোটেস্ট্যান্ট নিউজ সার্ভিস ইপিডি জানায়, ২০২১ সালে জার্মান সরকার পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য মোট পাঁচ হাজার নয়শ ২৪টি ভিসা প্রদান করে৷ কিন্তু সে বছর জার্মান সরকার এই শ্রেণিতে মোট ১২ হাজার ভিসা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছিল৷ তার মানে দাঁড়ায়, সরকার ২০২০ সালে যে পরিমাণ লোককে পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় জার্মানিতে আসতে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তার অর্ধেক লোক এই সুবিধা পেয়ে দেশটিতে এসেছে৷  

এদিকে এমন পরিস্থিতির জন্য করোনা মহামারিকে দায়ী করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ কেননা, করোনা মহামারির কারণে ভিসা অফিসের কার্যক্রম খুব ধীর ছিল৷  

ইপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক পুনর্মিলন ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি ভিসা প্রদান করা হয়েছে সিরীয়দের৷ এ সময়ে মোট দুই হাজার দুইশ ৯০ জন সিরীয় নাগরিক এই ক্যাটাগরিতে জার্মান ভিসা পেয়েছেন৷ দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইরাক ও তুরস্ক৷ তথ্য মতে, এক হাজার তিনশ ৭০ জন ইরাকি নাগরিক এবং ৮১০ জন তুরস্কের নাগরিক ২০২১ সালে এই শ্রেণির ভিসা পেয়েছেন৷ 

২০১৮ সালের শেষ দিকে সরকার প্রতিমাসে বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজার লোককে পারিবারিক পুনির্মলন ভিসায় জার্মানিতে আসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়৷ কিন্তু কোনো মাসেই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি সরকার৷ 

জার্মান সরকার ২০২০ সালে মোট পাঁচ হাজার তিনশ ৩১টি পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা প্রদান করে৷ কিন্তু ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি৷ করোনার কারণে ভিসা প্রদানের ধীর গতি থাকায় ২০২০ সাল থেকেই ভিসা প্রদানের সংখ্যা কমে এসেছিল বলে জানা যায়৷  

উল্লেখ্য, সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশনের আওতায় পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা দেওয়ার সংখ্যার কোনো সীমা রাখতে চায় না এসপিডির নেতৃত্বাধীন জার্মানির নতুন জোট সরকার৷ তার পরিবর্তে এ ভিসার অধীনে যে-কোনো সংখ্যক লোকের জন্য জার্মানিতে আসার দরজা উন্মুক্ত রাখতে চায় তারা৷

আরআ/এসিবি (ইপিডি) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন