২০২২ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়তে যাওয়া কট্টর ডানপন্থ ও অভিবাসন বিরোধী প্রার্থী এরিক জেম্মুর। ছবি:রয়টার্স
২০২২ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়তে যাওয়া কট্টর ডানপন্থ ও অভিবাসন বিরোধী প্রার্থী এরিক জেম্মুর। ছবি:রয়টার্স

ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসীবিরোধী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত এরিক জেমুর তার নির্বাচনি প্রচারাভিযানে বলেছেন, “রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের পেছনে ফরাসি বাজেটের বড় একটি অংশ খরচ হয়৷’’ তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করেছে ইনফোমাইগ্রেন্টস।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিবাসন ও আশ্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ ফ্রান্সের মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র দশমিক দুই শতাংশ৷ কিন্তু চলতি বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়তে যাওয়া কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী এরিক জেমুর তার নির্বাচনি প্রচারে বলে যাচ্ছেন, “আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ফরাসিদের বাজেটের বড় একটি অংশ খরচ হয়৷’’

এরিক জেম্মুরের তথ্যের ভিত্তি

এরিক জেম্মুর মূলত চলতি বছরের প্রস্তাবিত অর্থবিল এবং ২০২১ সালের পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণাগুলো তৈরী করেছেন৷

কট্টর অভিবাসনবিরোধী হিসেবে পরিচিত এরিক জেম্মুর দাবি করেন, আশ্রয়পার্থীদের মাসিক ভাতা, প্রাথমিক আশ্রয় এবং বাসস্থান ব্যয়ের সাথে যুক্ত খরচের মোট পরিমাণ ১৩০ কোটি ইউরো৷ তার দেয়া এই পরিসংখ্যানটি সঠিক৷ পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন এই সংখ্যাটি ফরাসি বাজেটের বড় একটি অংশ, যেটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য৷ 

অনলাইনে ফরাসি ভাষায় এরিক জেমুরের অভিবাসন বিরোধী প্রচারণার চিত্র।
অনলাইনে ফরাসি ভাষায় এরিক জেমুরের অভিবাসন বিরোধী প্রচারণার চিত্র।


কেন এই তথ্য অতিরঞ্জিত

২০২১ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় বাজেটের পরিসংখ্যান অনুসারে, অভিবাসন এবং আশ্রয়ের জন্য সার্বিকভাবে বরাদ্দকৃত মোট অর্থের পরিমাণ ১৩০ কোটি ইউরো ইউরো৷ এর ৯০ শতাংশই ব্যয় হয় আশ্রয় অধিকার আইন প্রয়োগ সম্পর্কিত কাজে৷  

তাই প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে এই পরিসংখ্যান যে কাউকে বিভ্রান্ত করবে৷ কারণ, ফ্রান্সের মোট বাজে্টের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪০০ কোটি ইউরো৷ খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেট দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো, যা মোট বাজেটের তিন দশমিক তিন শতাংশ৷ 

অপরদিকে আশ্রয় আইনের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩০ কোটি ইউরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত  মোট বাজেটের মাত্র চার দশমিক আট শতাংশ৷ যেটি এরিক জেমুরের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত৷ আশ্রয়পার্থী ও আশ্রয় আইনের জন্য প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ মোট বাজেটের মাত্র দশমিক দুই শতাংশ৷ 

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্রচারাভিযানে সস্তা জনপ্রিয়তা এবং অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উস্কে দেয়ার উদ্দেশে তিনি এই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করছে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো৷


এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন