ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন জার্মানির নতুন জোট সরকার অভিবাসীদের কাছে দেশটির শ্রম খাতকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চায়৷ ছবিতে বাম থেকে দ্বিতীয়জন অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেক৷ ছবি: ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স
ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন জার্মানির নতুন জোট সরকার অভিবাসীদের কাছে দেশটির শ্রম খাতকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চায়৷ ছবিতে বাম থেকে দ্বিতীয়জন অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেক৷ ছবি: ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স

বড় ধরনের কর্মী সংকটে পড়ার আগেই জার্মানিতে অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপক আকারে বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেক৷ নয়ত দেশটির উৎপাদন ও জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তিনি৷

অনেকদিন ধরেই জার্মানির অর্থনীতি প্রয়োজনীয় কর্মী সংকটে ভুগছে৷ বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী না থাকায় বিভিন্ন খাতে লোকবলের অভাব দেখা দিচ্ছে৷ জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক মনে করেন এই সমস্যা সমাধানে দেশটির অভিবাসী সংখ্যা ব্যাপক আকারে বাড়াতে হবে৷ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমাদের তিন লাখ কর্মখালি আছে, যা ১০ লাখ বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে৷’’ 

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে দেশটিতে যে পরিমান মানুষ প্রতি বছর অবসর নিচ্ছেন, তা বিদ্যমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দিয়ে পূরণ সম্ভব হচ্ছে না৷ জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট এর হিসাবে, চলতি বছর এ কারণে শ্রমবাজারে তিন লাখ কর্মী ঘাটতি তৈরি হবে৷ ২০২৯ সালে তা সাড়ে ছয় লাখে পৌঁছাবে৷ জার্মানির নতুন জোট সরকারের অংশীদার গ্রিন পার্টির নেতা হাবেক বলেন, ‘‘এই ঘাটতি মেটাতে না পারলে আমরা সত্যিকারের উৎপাদন সংকটে পড়ব৷

বর্তমানে নাগরিকদের বাইরে জার্মানিতে কর্মসংস্থানে নিযুক্ত অভিবাসীদের সংখ্যা চল্লিশ লাখ৷ এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৭৫ শতাংশ বেড়েছে৷ তারপরও কিছু নির্দিষ্ট খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট দেখা দিচ্ছে৷ বিশেষ করে প্রকৌশল, হস্তশিল্প, সেবাখাতে অভিবাসীদের দিয়ে কর্মী চাহিদা পূরণে আরো সমন্বয়ের প্রয়োজন বলে মনে করেন ওলাফ শলৎস সরকারের ভাইস চ্যান্সেলর হাবেক৷ 

পড়ুন: জার্মানির শ্রম বাজারে অভিবাসীদের গুরুত্ব বাড়ছে

বিগত কয়েক দশকের নিম্ন জন্মহার ও যথেষ্ট অভিবাসন না ঘটায় যে কর্মী সংকট দেখা দিচ্ছে তা দেশটির অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ঘটাবে বলে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করে আসছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা৷ দিনকে দিন অবসরে যাওয়া বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠীর অবসর ভাতার ব্যয়ভার এখন পড়ছে কর্মে নিযুক্ত অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক চাকুরিজীবীর উপর৷ এরমধ্যে যথেষ্ট কর্মী তৈরি করা না গেলে এই চাপ সামনের দিনে বাড়তেই থাকবে৷

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল পর্যন্ত হিসাবে জার্মানিতে সাড়ে চার কোটি মানুষ চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন৷ করোনার মধ্যেও গত বছর দেশটিতে চাকরির সংখ্যা বেড়েছে৷ নতুন জোট সরকারের অংশীদাররা দেশটির শ্রম খাতকে অভিবাসীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চান৷ বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে আসা ও চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করা, বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ আরো উন্মোচন করাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা৷ এর অংশ হিসেবে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করে ঘণ্টায় ১৩.৬০ ইউরো করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার৷ 

পড়ুন: আশ্রয়ের আবেদন জমায় শীর্ষে জার্মানি


এফএস/কেএম (রয়টার্স

 

অন্যান্য প্রতিবেদন