পোল্যান্ড ও বেলারুশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য  জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গে এই কেন্দ্রটি খোলা হয়েছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
পোল্যান্ড ও বেলারুশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গে এই কেন্দ্রটি খোলা হয়েছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

২০২১ সালে জার্মানিতে অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে বেড়েছে৷ সেই সঙ্গে আবেদন গ্রহণ বা মঞ্জুরও বৃদ্ধি পেয়েছে৷

জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস (বিএএমএফ)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর জার্মানিতে দুই লাখ ২২ হাজার ৬০০ অভিবাসী আশ্রয় আবেদন করেছেন, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ৷ আবেদনকারীদের বড় অংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে এসেছেন৷ শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পেতে ৭০ হাজার সিরীয় গেল বছর জার্মানিতে আবেদন করেছেন৷ 

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণ ও ভেঙে পড়া অর্থনীতির দরুণ বিপুল মানুষ গত বছর দেশটি ছাড়তে বাধ্য হন৷ তার বড় একটি অংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন৷ এরমধ্যে ৩১ হাজার আফগান ২০২১ সালে জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ 

বেড়েছে আবেদন গ্রহণও

আশ্রয় আবেদনের পাশাপাশি গত বছর আবেদন গ্রহণের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে৷ ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের আবেদন মঞ্জুর করেছে জার্মানি৷  

বিএএমএফ এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটি এক লাখ ৯০ হাজার ৮০০ জনের আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করেছে৷ যেখানে ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ২২ হাজার৷

পড়ুন: ‘পরিবার ভিসায়’ জার্মানিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে

নবজাতকের জন্য আবেদন

গত বছর মোট আবেদনকারীর মধ্যে এক লাখ ৪৮ হাজার জনই প্রথমবারের মতো আবেদন করেছেন, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ৷ এরমধ্যে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করা শিশুর জন্য আবেদন ছিল প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ৷

বর্তমান জার্মান আইন অনুযায়ী, দেশটিতে জন্ম নেয়া শিশুর বাবা-মায়ের অন্তত একজন বৈধভাবে আটবছর জার্মানিতে বসবাস না করলে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না পেলে সেই শিশু আপনাআপনি দেশটির নাগরিকত্ব পাবে না৷ যার কারণে আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীদের শিশুদের জাতীয়তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়৷ বিশেষ করে বাবা-মা যদি নিজ দেশে সন্তানের নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন তাহলে সেই শিশু রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়৷

আশ্রয় আবেদনকারীদের শীর্ষ গন্তব্য

যুদ্ধ, জাতিগত নিধন, নির্যাতন, জীবনের ঝুঁকি কিংবা অর্থনীতি, নানা কারণে নিজ দেশ ছেড়ে প্রতিবছর ইউরোপে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন অনেক মানুষ৷ তাদের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য জার্মানি৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে এই দেশটিতে৷ ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্য দেশগুলোর চেয়ে জার্মানিতে আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনাও বেশি থাকে৷

একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানে এই চিত্রটি বোঝা যেতে পারে৷ যেমন, সেপ্টেম্বরের আগের তিনমাসে করা প্রায় ৩০ হাজার আবেদনের ১৬ হাজার ২০০ বা অর্ধেকের বেশিই মঞ্জুর করেছে জার্মানি৷ একই সময়ে ৩৩ হাজার ৩২৫টি আশ্রয় আবেদনের মধ্যে মাত্র নয় হাজার ৪২৫টি গ্রহণ করেছে ফ্রান্স৷ 

পড়ুন: কর্মী সংকট মেটাতে বড় আকারে অভিবাসন প্রয়োজন: জার্মান অর্থমন্ত্রী

এফএস/জেডএইচ (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন