অফি'র সহায়তায় নিজ দেশে ফেরত যেতে প্যারিসের শার্ল-দ্যো-গল বিমানবন্দরে অপেক্ষমান এক অভিবাসী। ছবি: রয়টার্স
অফি'র সহায়তায় নিজ দেশে ফেরত যেতে প্যারিসের শার্ল-দ্যো-গল বিমানবন্দরে অপেক্ষমান এক অভিবাসী। ছবি: রয়টার্স

গত বছর ফ্রান্সে অনিয়মিত বা বৈধ বসবাসের অনুমতি ছাড়া অবস্থানরত প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ‘স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন’ করতে সহায়তা করেছে ফ্রান্স সরকার৷ তবে ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম৷

বসবাসের অনুমতি নেই এমন অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে সহায়তা করে ফ্রান্সের সরকার৷ প্রতি বছর অনেক অভিবাসীই এই সুযোগ নিয়ে থাকেন৷

মহামারির কারণে গত বছর সংখ্যাটি কমলেও ২০২১ সালে প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ‘স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে’ সাহায্য করেছে ফরাসি অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক দপ্তর (অফি)৷ সংস্থাটির মহাপরিচালক দিদিয়ের লেসছি বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন৷ 

তিনি বলেন, ‘‘২০১৯ সালে আমরা আট হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করেছি৷ কিন্তু বিমান পরিবহণ বন্ধ থাকা, কোভিড মহামারিতে চলা জরুরি অবস্থার কারণে ২০২০ সালে চার হাজার ৫০০ জন এবং ২০২১ সালে প্রায় পাঁচ হাজার জনের স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করতে পেরেছি৷’’

পুনরায় সংস্থাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া দিদিয়ের লেসছি আরো বলেন, “মহামারির কারণে সীমান্তে ও বিমান বন্দরে পুরোদমে কার্যক্রম নিয়ে আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি৷ স্বেচ্ছা প্রস্থানের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে আমার দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি৷’’

প্রত্যাবাসনে আগ্রহীরা যেসব সুবিধা পান

নিজ ইচ্ছায় ফিরতে আগ্রহীদের বিমান টিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় অফি৷ সাথে এককালীন ন্যূনতম ১৮৫০ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়৷ বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ করে বিমানে উঠার ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের হাতে নগদ এই অর্থ তুলে দেয়া হয়৷ 

অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসী, বিশেষ করে যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন শেষ হয়ে গেছে অথবা দীর্ঘদিন ডাবলিন বিধিমালার আওতায় আছেন সেসব অভিবাসীরা যাতে নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী হন সেজন্য এই আর্থিক সাহায্যের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানায় অফি৷

স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনকারীরা ফ্রান্স ত্যাগের সময় এককালীন অর্থের বাইরেও দেশে ফেরার পর স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যও সাহায্য পেয়েছে৷ ‘পুনবার্সন সহায়তা’ নামে এই টাকার পরিমাণ কত হবে তা নির্ভর করে প্রত্যাবাসনকারীর দেশের উপরে৷ দেশভেদে এই অর্থ সাড়ে তিন হাজার ইউরো থেকে শুরু করে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে৷ এজন্য প্রত্যাবর্তনকারীকে নিজ দেশে একটি সুনির্দিষ্ট পেশাদার প্রকল্প দেখাতে হয়, যার মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন৷ 

কোনো প্রকল্প গৃহীত হলেও এই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করা হয় না৷ এক্ষেত্রে ফরাসি অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক দপ্তর (অফি) নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে দেয়৷ যার সাহায্যে ঐ ব্যক্তি তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবেন৷

কমেছে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনও

অফির মহাপরিচালক দিদিয়ের লেসছি স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনকারীদের ফ্রান্স ত্যাগ করার আগে ও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরে দেয়া পুনর্বাসন সহায়তা বিষয়গুলোকে আগের চেয়েও আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন৷

তিনি বলেন, “অনিয়মিত অবস্থায় বসবাসরত অভিবাসীরা যাতে উত্তম অবস্থায় তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ৷ পাশাপাশি তাদেরকে একটি অর্থনৈতিক বা পেশাদার কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে নিজ দেশে স্থায়ী হতে সুযোগ করে দেয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷’’

এসব সুযোগ নিয়ে যারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চান না এবং আইনী প্রক্রিয়ায় যারা শেষ পর্যন্ত বৈধতা অর্জন করতে পারেন না তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ৷ ২০১৯ সালে এমন ১৮ হাজার ৯০৬ অভিবাসীকে ফ্রান্স থেকে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে৷ পরের বছর এই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে৷ ২০২০ সালে নয় হাজার ১১১ জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।



এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন