অনেক শরণার্থী এবং অভিবাসী মানসিক সমস্যার কথা জানান | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
অনেক শরণার্থী এবং অভিবাসী মানসিক সমস্যার কথা জানান | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিশ্ব মনোরোগবিদ্যার (ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগা শরণার্থীদের সহায়তা দিতে একটি ‘সেল্ফ-হেল্প’ কোর্স বেশ সহায়ক হতে পারে৷ এই কোর্স তাদেরকে মানসিকব্যাধি থেকে দূরে রাখবে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৈরি ‘সেল্ফ-হেল্প প্লাস (এসএইচপ্লাস)’ নামের একটি কোর্স শরণার্থীদের মধ্যে মানসিকব্যাধীতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অর্ধেকের বেশি কমাতে পারে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে৷ 

তুরস্কে ৬৪২ জন শরণার্থীকে গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়৷ তাদের অধিকাংশই সিরিয়া থেকে এসেছেন৷ আর বাকিরা এসেছেন ইরাক, অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল এবং ইয়েমেন থেকে৷ গবেষণায় অংশ নেয়াদের অর্ধেককে এসএইচ+ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়৷ বাকিদেরকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্য কর্মসূচি যা এনহেন্সড কেয়ার এজ ইউজ্যুয়াল (ইসিএইউ) দেয়া হয়েছে৷  

শরণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ছয় মাস পর দেখা গেছে যারা এসএইচ+ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে মানসিক রোগ হওয়ার আশঙ্কা শুধুমাত্র ইসিএইউ কর্মসূচিতে অংশ নেয়াদের চেয়ে অনেক কম৷ এসএইচ+ প্রশিক্ষণ নেয়াদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের হার ২২ শতাংশেরও কম, অন্যদিকে ইসিএইউ-র আওতায় থাকাদের মধ্যে এই হার ৪১ শতাংশের বেশি৷ 

শরণার্থী শিশুদের ভোগান্তি বেশি হয়, কেননা বছরের পর বছর অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হয় তাদের | ছবি: ডিডাব্লিউ
শরণার্থী শিশুদের ভোগান্তি বেশি হয়, কেননা বছরের পর বছর অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হয় তাদের | ছবি: ডিডাব্লিউ


‘মেনে নেয়া এবং অঙ্গীকার থেরাপি’

ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গবেষণায় অংশ নেয়া শরণার্থীদের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ শতাংশই নারী৷ আর এসএইচ+ কোর্সটি মূলত মেনে নেয়া এবং অঙ্গীকার থেরাপি, যা জ্ঞানভিত্তিক আচরণগত থেরাপির একটি ধরন৷  

আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও-র মাধ্যমে প্রশিক্ষণটি দেয়া হয়েছে৷ পাশাপাশি সেল্ফ-হেল্প বা স্বসহায়ক বইও দেয়া হয়েছে যেখানে ছবি ও লেখার মাধ্যমে বিষয়গুলো বোঝানো হয়েছে৷ প্রশিক্ষণে শরণার্থীদের মূলত মানসিক চাপ কমানোর নানা উপায়ের কথা জানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন গ্রুপ করে এ সংক্রান্ত নানা কিছু শেখানো হয়েছে৷  

পাঁচটি দুই ঘণ্টাব্যাপী সেশনে প্রশিক্ষণটি করানো হয়েছে৷ এর সঙ্গে সম্পৃক্তরা মনে করছেন, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, পিটিএসডির মতো মানসিক রোগের আশঙ্কা এভাবে দূর করা সম্ভব৷ 

ছয় মাসের মধ্যে অগ্রগতি

গবেষণায় জানানো হয়েছে, এসএইচ+ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাদের মধ্যে বিষন্নতাসহ নানা ধরনের রোগের লক্ষণও ছয় মাসের মধ্যে কমে গেছে৷ 

যেহেতু এই প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয় না এবং একসঙ্গে অনেককে এভাবে প্রশিক্ষিত করা যায়, তাই ডাব্লিউএইচও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শরণার্থী, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদেরও এভাবে প্রশিক্ষণ দিতে চায়৷ 

তবে, এসএইচ+ অন্যান্য সামাজিক, শারীরিক এবং মানসিক সেবার সঙ্গে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও৷ 

বৈশ্বিক সংস্থাটির হিসেব অনুযায়ী, ২০২০ সালে গোটা বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল আট কোটি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি৷ তাদের মধ্যে দুই কোটি ষাট লাখ মানুষ সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজের দেশ থেকে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন৷ অনেক শরণার্থী ও অভিবাসী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বা ভোগার আশঙ্কায় রয়েছেন৷

এআই/এফএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন