লিবিয়ায় অভিবাসী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন  আন্তনিও গুতেরেস
লিবিয়ায় অভিবাসী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তনিও গুতেরেস

লিবিয়ায় ২৭ টি আটক কেন্দ্রে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ হাজারের বেশি মানুষ বন্দি রয়েছেন, যারা মূলত অভিবাসী ও শরণার্থী৷ এর বাইরে আরো হাজারো মানুষ বিভিন্ন গোপন স্থাপনায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে অমানবিক পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন৷ নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস৷

গত আগস্ট থেকে শুরু করে মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া সোমালিয়া, সুদান ও শাদের বহু নাগরিককে পূর্ব ও দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বহিস্কার করেছে লিবিয়া৷ এতে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করার সমালোচনা করেন জাতিসংঘ প্রধান৷পাশাপাশি অভিবাসী, শরণার্থীদের বিতর্কিতভাবে আটক, গেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ অক্টোবরে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের একটি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে সেই ঘটনায় অতরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেন তিনি৷ এই অভিযানে পাঁচ হাজার ১৫০ জন অভিবাসী, শরণার্থীকে টার্গেট করা হয়৷ এর মধ্যে নারী ও শিশু ছিল অন্তত এক হাজার৷ অভিযানের ফলে তাদের অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, নিখোঁজ হয়েছে অনেক শিশু৷ জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, “লিবিয়ার সরকারের দেয়া হিসাবের বাইরেও বহু মানুষ বিভিন্ন আটক কেন্দ্রগুলোতে বন্দি রয়েছেন৷ এই বন্দিদশা চ্যালেঞ্জের কোন আইনী সুযোগ পাচ্ছেন না তারা৷”

নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেয়া জাতিসংঘের বিশেষ এই প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছে বার্তা সংস্থা এপি৷ আন্তনিও গুতেরেস সেখানে বলেছেন, ‘‘লিবিয়ায় অভিবাসী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীদের উপর অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন৷’’

তিনি বলেন, ‘‘নারী-পুরুষ অভিবাসী ও শরণার্থীরা আন্তঃদেশীয় চোরাচালানকারী ও পাচারকারী, সশস্ত্র গোষ্ঠী, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনবরত ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷’’

প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ইউএনএসএমআইএল নামে পরিচিত জাতিসংঘে লিবিয়ার রাজনৈতিক মিশনের নথির ভিত্তিতে৷ মিটিগিয়া জেলখানা, দেশটির সরকার পরিচালিত বেশ কয়েকটি বন্দিকেন্দ্র এবং ৩০ জন নাইজেরিয়ান নারী, শিশুকে পাচার ও তাদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ প্রতিবেদনটিতে হাজির করা হয়েছে৷ 



২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লিবিয়া৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত বা দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর অভিবাসী, শরণার্থীরা লিবিয়াকে ‘ট্রানজিট দেশ’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন৷ এমনকি বাংলাদেশ থেকেও অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ এসব অভিবাসী ও শরণার্থীদের অনেকে পাচারকারীদের নির্যাতন ও শোষণের শিকার হচ্ছেন

৩১ হাজার অভিবাসী, শরণার্থীকে আটক

গুতেরেস প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, অভিবাসীদের উপকূল বা সমুদ্র থেকে গ্রেপ্তার করে বিতর্কিতভাবে আটক অব্যাহত রেখেছে লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী৷ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেয়া হিসাবে ৩০ হাজার ৯৯০ জন অভিবাসী, শরণার্থীকে ইউরোপ যাত্রায় বাধা দিয়ে লিবিয়ার ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনে বা আটক করে দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী৷ ২০২০ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটি তিনগুণ বেশি৷ এই সময়ে যাত্রাপথে তেরশোর বেশি মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব৷

গত আগস্ট থেকে শুরু করে মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া সোমালিয়া, সুদান ও শাদের বহু নাগরিককে পূর্ব ও দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বহিস্কার করেছে লিবিয়া৷ এতে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করার সমালোচনা করেন জাতিসংঘ প্রধান৷

আন্তনিও গুতেরেসে বলেন, “বহিস্কার ও ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বসম্মত আইন অনুসরণ করেনি লিবিয়া কর্তৃপক্ষ৷ এতে অনেক আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসী ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছেন৷”

এফএস/এআই (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন