বেলারুশের ব্রুজগি সীমান্তে আটকে পড়া হাজারো অভিবাসী। ছবি:রয়টার্স
বেলারুশের ব্রুজগি সীমান্তে আটকে পড়া হাজারো অভিবাসী। ছবি:রয়টার্স

পশ্চিম ইউরোপে অভিবাসী পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মানব পাচার চক্র দলের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পোলিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পোলিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের অবৈধ ভাবে বিভিন্ন দেশে পাচারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি কয়েক মিলিয়ন ইউরো সমমানের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে৷

পোল্যান্ডের জাতীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুসারে, অভিবাসীদের পাচারে জড়িত একটি নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পোলিশ কর্তৃপক্ষ৷ পোলিশ-বেলারুশ সীমান্ত পার করিয়ে দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ঢুকতে অভিযুক্ত নেটওয়ার্কটিকে জনপ্রতি তিন হাজার ইউরো করে পরিশোধ করতে হয়৷ 

আসামীরা পোলিশ, জর্জিয়ান, ইউক্রেন, সিরিয়া এবং টিউনিসিয়ার নাগরিক৷ পোলিশ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের মুখপাত্র আর্থার সিজিকুলা বলেন, ‘‘এই নেটয়ার্কটি ইতোমধ্যে কয়েক মিলিয়ন ইউরো সমমানের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে৷ মানব পাচার দলটি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে ৮৭ লাখ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের লেনদেন করেছে৷ শুধু পাচারে সরাসরি কাজ করা সদস্যরাই ৪৩ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ পেয়েছে৷’’

‘লক্ষ্য পশ্চিম ইউরোপ’

পোলিশ সীমান্ত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আসা বেশিরভাগ অভিবাসীরাই পোল্যান্ডে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেননি৷ তাই তারা পূর্ব ইউরোপ ছেড়ে যাওয়ার আশায় পাচারকারীদের অর্থ প্রদান করেন৷

পোলিশ জাতীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র আনা মিচালস্কা বলেন, “অভিবাসীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ অন্য কোনো দেশে যেতে চায়, প্রধানত পশ্চিম ইউরোপে্র দেশগুলোতে৷’’

গত গ্রীষ্ম থেকে হাজার হাজার অভিবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশের আশায় বেলারুশিয়ান সীমান্তে ভিড় করেছে৷ তাদের মধ্যে হাজারো অভিবাসী ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছে৷ 

ইরাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার ঘোষণা করেছে, “নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত পোলিশ, লিথুয়ানিয়ান এবং লাটভিয়ান সীমান্তের কাছে আটকা পড়া প্রায় চার হাজার ইরাকিকে কুর্দিস্তান ও ইরাকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে৷’’

তবে এখনও অনেক অভিবাসী বেলারুশ সীমান্তের পাশে বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে আছেন৷ 

সীমান্তে চলমান এই অভিবাসন সংকট নিয়ে ইইউ এবং পশ্চিমা দেশগুলো বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সরকারকে অভিযুক্ত করেছে৷ তাদের মতে, ২০২০ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে বেলারুশের সরকারের বিরুদ্ধে দেয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে অভিবাসীদের ভিসা প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপীয় সীমান্তকে অস্থিতিশীল করতে কৃত্রিমভাবে এই অভিবাসন সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। 

তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মিন্সক ইউরোপে এসব অভিবাসীদের স্বাগত না জানানোর নীতির সমালোচনা করে আসছে।

অভিবাসীদের আগমন রোধ করতে পোল্যান্ড সীমান্তে প্রাচীর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এছাড়া সীমান্ত এলাকায় এনজিও, অভিবাসন সংস্থা, অধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল ২১ ডিসেম্বর, পোল্যান্ড এবং বেলারুশ সীমান্ত এলাকায় প্রবেশের অনুমোদন না পেয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছে।



এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন