ত্রিপোলির অদূরে আইন জারা আটক কেন্দ্রে বন্দী অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স
ত্রিপোলির অদূরে আইন জারা আটক কেন্দ্রে বন্দী অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লিবিয়ার আটককেন্দ্রগুলিতে থাকা অভিবাসীদের জন্য কোনো ধরনের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে না৷ ইউএনএইচসিআর আটককেন্দ্র থেকে অভিবাসীদের মুক্ত করে আনে বলে লিবিয়ায় বেশ কিছু দিন ধরেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে৷

অভিবাসীরা ইউএনএইচসিআর-এর সাথে নিবন্ধনের চেষ্টা করতে ত্রিপোলির আইন-জারা কারাগারে গিয়েছিল৷ ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, “লিবিয়ায় ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রগুলোতে বন্দি অভিবাসীদের নিবন্ধন করে উচ্ছেদ বা পুনর্বাসনের মতো কোনো প্রক্রিয়া ইউএনএইচসিআর চালায় না৷’’

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি মূলত হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব নিয়ে সৃষ্ট ‘পরিস্থিতি স্পষ্ট’ করতেই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে৷


সাম্প্রতিক দিনগুলিতে, ত্রিপোলির অদূরে ‘আইন জারা’ কারাগারের আটক বেশ কিছু বন্দি প্রধান ফটকে এসে জানান তারা ইউএনএইচসিআর এর সাহায্যে লিবিয়া থেকে তৃতীয় কোনো দেশে যেত চান৷ এজন্য তাদের নাম যাতে নথিভুক্ত করা হয়৷ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কারাগারে বন্দি থাকা অভিবাসীদের জন্য ইউএনএইচসিআর-এর এমন কোনো প্রক্রিয়া নেই৷  

এই কারাগারেই অবস্থান করছেন শত শত অভিবাসী যারা তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের দাবিতে ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের সামনে তিন মাস ধরে অস্থায়ী ক্যাম্প করে আন্দোলন করছিলেন৷ ক্যাম্প উচ্ছেদ করে সেখান থেকে তাদেরকে ৯ জানুয়ারি ফেরত পাঠানো হয়৷  

‘আইন জারা’ কারাগার পরিদর্শন

৯ জানুয়ারি অভিবাসীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম) বন্দিদের সমস্যা শনাক্ত করতে ‘আইন জারাতে’ একটি যৌথ মিশন পরিচালনা করে৷

বিবৃতিতে জোর দিয়ে জানানো হয়, “কারাগার পরিদর্শন ছিল বন্দিদের সার্বিক দৈনন্দিন প্রয়োজনের ব্যাপারে কিন্তু এই আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি কিংবা তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের উদ্দেশে কোনো প্রকার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না৷’’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কখনও কখনও ইউএনএইচসিআরের সাহায্যে লিবিয়ার কারাগারে থাকা কিছু বন্দিদের মুক্তির অনুমতি মিলেছে৷ তবে এটি খুব ব্যতিক্রম ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে৷ লিবিয়ায় কর্মরত এজেন্সির মুখপাত্র ক্যারোলিন গ্লুকের মতে, কোনো অভিবাসীর জন্য অধিকারকর্মীরা সোচ্চার হলে সেক্ষেত্রে কারাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে মাঝেমধ্যে এমন মুক্তি দেয়ার ঘটনা ঘটে থাকে৷ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন৷

এক্ষেত্রে মুক্তিপ্রাপ্তরা বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমের সুবিধাও পান৷ যেমন, আবাসনের খরচ মেটাতে নগদ সহায়তা, স্বাস্থ্য কিট সরবরাহ, খাদ্য সহায়তা ইত্যাদি৷

আটককেন্দ্র থেকে মুক্ত হলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা অন্য দেশে যেতে পারেন না বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হন না৷ 

‘অভিবাসীদের কষ্ট আমাদের সবার দায়িত্ব’

লিবিয়ার আটককেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে বরাবর সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মীরা৷ বন্দিদের জোরপূর্বক শ্রম, যৌন সহিংসতা, নির্যাতনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয় না বলে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে৷ আইন জারা কারাগারও এর ব্যতিক্রম নয়৷

১৫ জানুয়ারি এই আটককেন্দ্র পরিদর্শনের সময় লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাজলা এল মাঙ্গুশ শিশুসহ বেশ কয়েকজন অভিবাসীর সঙ্গে দেখা করেন৷ তিনি বলেন,‘‘অভিবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব আমাদের সকলের দায়িত্ব৷’’ 

তবে মন্ত্রীর কারাগার সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করেছে লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীরা৷ ইউএনএইচসিআর প্রাঙ্গণের সামনে আন্দোলন করা অভিবাসীদের মুখপাত্রদের একজন ডেভিড অলিভার ইয়াম্বিও টুইটারে লিখেছেন, ‘‘দিনের পর দিন লজ্জাজনকভাবে লিবিয়ায় শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকারের লঙ্ঘন করা হচ্ছে৷’’

এর আগে তিনি ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেছিলেন, ক্যাম্প উচ্ছেদের পর থেকেই তাকে খুঁজছে লিবিয়ার পুলিশ৷ 



এমএইউ/এফএস








 

অন্যান্য প্রতিবেদন