বেলজিয়ামে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একদল আশ্রয়প্রার্থী | ছবি: ইমেগো
বেলজিয়ামে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একদল আশ্রয়প্রার্থী | ছবি: ইমেগো

আশ্রয়প্রার্থীদেরকে শ্রমবাজারে যুক্ত করতে ‘ক্যাটারিং এন্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট’ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বেলজিয়াম সরকার৷ এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আবেদন যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ার সময়টাতে নতুন কিছু শিখতে ও শ্রমবাজারে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছেন৷

দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়েলুন অভ্যর্থনাকেন্দ্রে অবস্থানরত ২৮ আশ্রয়প্রার্থী ১৩ জানুয়ারি থেকে সেখানকার একটি চার তারকা হোটেলে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছেন৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রশিক্ষণে তারা হোটেল এবং ক্যাটারিং শিল্পের নানা কিছু শিখবেন৷  

বেলজিয়ামের আশ্রয় এবং অভিবাসন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সামি মেহদি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন৷ আর এটি পরিচালনা করছে দেশটির আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা ফেডাসিল৷ শ্রমবাজারে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্তর্ভূক্তিতে কাজ করছে সংস্থাটি৷ 

‘আমাদের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা কাজ করতে চান’

বেলজিয়ামে আশ্রয়ের আবেদন করার পর আশ্রয়প্রার্থী চারমাস কাজ করতে পারেন৷ দেশটিতে একটি আবেদন যাচাইবাছাই শেষ হতে ১৫ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় দরকার হয়৷


‘‘বাস্তবে কাজের সম্ভাবনা খুব কমই ব্যবহার করা হয়,’’ বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন মেহদি৷ এর কারণ হচ্ছে ফেডাসিল অভিবাসীদেরকে সামাজিক এবং ভৌগোলিকভাবে আলাদা করে রাখে৷ পাশাপাশি ভাষা না জানা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে অভিবাসীদের সখ্যতা তৈরি না হওয়ায়ও চাকরির সম্ভাবনা তেমন একটা কাজে লাগানো যায় না৷ 

কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে আশ্রয়ের আবেদন করা অনেকেই কাজ করতে চান৷ এই বিষয়ে দেশটির ল্যচো সংবাদপত্রকে রেডক্রস পরিচালিত একটি অভিবাসী অভ্যর্থনাকেন্দ্রের কর্মকর্তা জ্যনোভিয়া ইসতাস বলেন, ‘‘আমি বলবো আমাদের কেন্দ্রের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দাই কাজ করতে চান৷’’

‘‘কেন্দ্রে বসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা সহজ কথা নয়৷ আপনার মন সবসময় অস্থির থাকে কেননা আপনি জানেন না যে ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে৷ এটা ক্লান্তিকর ব্যাপার,’’ বলেন ৪২ বছর বয়সি প্রশিক্ষক কোফি৷ 

লোকবলের অভাব

প্রশিক্ষণ শেষে আশ্রয়প্রার্থীদের একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে৷ পাশাপাশি তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদে চাকুরির প্রস্তাবও দেয়া হতে পারে৷ আর সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের ভবিষ্যতে স্থায়ী চাকুরিও দেয়া হবে৷ 

বেলজিয়ান কর্তৃপক্ষ মনে করে, এভাবে অভিবাসীদের অপেক্ষার সময়টাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে৷ এতে করে তারা নতুন কিছু যেমন শিখবে তেমনি দেশটির শ্রমবাজারের কর্মী ঘাটতিও কিছুটা মিটবে৷ ফেডাসিলের মুখপাত্র বেনওয়া মানসি এই বিষয়ে বলেন, ‘‘নির্মাণ এবং ক্যাটারিং খাতসহ অনেক খাতের প্রতিষ্ঠানের আরো কর্মী দরকার৷’’  

ফেডাসিল অবশ্য গতবছরই আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ দিতে কর্মী দরকার এরকম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে৷ নতুন পরিকল্পনার আওতায় বিদেশিদের কাজ পাওয়ার পথ আরো সুগম করছে সংস্থাটি৷ 

এআই/এফএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন