লিওঁ শহরে চালু হওয়া নতুন আটক কেন্দ্র। ছবি: préfecture Auvergne-Rhône-Alpes / Twitter
লিওঁ শহরে চালু হওয়া নতুন আটক কেন্দ্র। ছবি: préfecture Auvergne-Rhône-Alpes / Twitter

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের লিওঁ শহরে কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের জন্য আরও একটি নতুন প্রশাসনিক আটককেন্দ্র (সিআরএ) বা ডিটেনশন সেন্টার খোলা হয়েছে।

তবে অভিবাসন সংস্থাগুলো এর নিন্দা জানিয়ে বলছে, এভাবে আটককেন্দ্রগুলোকে 'কারাগারে পরিণত করার বিষয়টি অভিবাসনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার শামিল।' 

গত সোমবার থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের লিওঁ শহরে একটি নতুন প্রশাসনিক আটককেন্দ্র (সিআরএ) চালু করা হয়েছে। নতুন কেন্দ্রটিতে ১৪০ জনকে রাখা যাবে। 

এর ফলে দেশটির লিওঁ অঞ্চলে অবস্থিত আটককেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা দাঁড়ালো ২৮০তে। অর্থাৎ এসব কেন্দ্রে সর্বমোট ২৮০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। 

সাধারনত ফ্রান্স ত্যাগের নির্দেশে পাওয়া কোন অভিবাসী যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশ ত্যাগ না করেন তাহলে আইনিভাবে সেসব অভিবাসীকে এসকল আটককেন্দ্র বা সিআরএ’তে রাখা হয়। 

এছাড়া ডাবলিন বিধিভুক্ত যেসব আশ্রয়পার্থীকে তাদের প্রথম আঙুলের ছাপ দেয়া দেশে ফিরে যাওয়ার নোটিশ দেয়া হলে সেক্ষত্রেও কর্তৃপক্ষ চাইলে স্থানান্তরের আগে আশ্রয়পার্থীদের এসব কেন্দ্রে আটক রাখতে পারেন। 

গত চার বছরে ধরে ফ্রান্সের এসকল আটককেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। 

তাছাড়া সম্প্রতি দেশটির অরলেওঁ, বর্দু এবং প্যারিস অঞ্চলে আরও তিনটি নতুন আটককেন্দ্র চালুর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত এসকল ডিটেনসন সেন্টার চালু হলে সারা দেশে অবস্থিত দেশটির বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ২১৫৭ জনকে রাখা যাবে। ২০১৭ ছিল এসকল আটককেন্দ্রের ধারণক্ষমতার মাত্রা ছিল ১০৬৯। 

“কারাগারে পরিণত করা হচ্ছে”

সোমবার, ১৭ জানুয়ারি অভিবাসীদের জন্য তৈরি এসকল আটককেন্দ্রে অভিবাসীদের বন্দীত্ব ও নানা ধরনের বঞ্চনার বিষয়ে আয়োজিত এক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

কনফারেন্সে ফ্রান্সে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পরিদর্শক সংস্থা ওইই’র গবেষক পল শিরন বলেন, “আটককেন্দ্রগুলোর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিতে বুঝা যায় অভিবাসন আইন নিয়ে ইউরোপ কঠোর হয়ে উঠছে।"

ভূগোলবিদ এবং মাইগ্রেরোপ সংস্থার সদস্য অলিভিয়ার ক্লোচার্ড বলেন, ''আটককেন্দ্রগুলোকে কারাগারের পরিবেশ দেয়ার একটি চেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি।" 

তিনি আরও বলেন, “এসব কেন্দ্রের পরিচালনাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমাদেরকে কারাগারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সিআরএগুলি প্রায়সময় কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা থাকে।” 

অভিবাসীদের বন্দীত্ব ও বঞ্চনা নিয়ে কাজ করা পরিদর্শক সংস্থা (ওইই)’র আইনি পরিচালক মউদ হোস্টলেন্ড বলেন, “কারাগারে যেমন নির্জন কারাবাসের জন্য বিশেষ সেল বা ইউনিট রয়েছে, তেমনি এসব সিআরএতেও বন্দীদের জন্য বিশেষ কক্ষ রয়েছে।” 

'মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন'

মউদ হোস্টলেন্ড আরও বলেন, “ আটককেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আটকে থাকা অভিবাসীদের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নানাভাবে লঙ্ঘন হয়। কেন্দ্রগুলোর একটি ব্লকে সাধারন দেয়ালের পাশে একটি নিম্নমানের বিছানা এবং অত্যন্ত নিম্নমানের টয়লেট দেয়া থাকে। যা অনেকটা পুলিশি হেফাজতে থাকা দুর্ধষ আসামিদের মতো।” 

এনজিও ও অভিবাসন সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিআরএগুলোর আবাসনব্যবস্থা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে অভিযোগ করে আসছে। 


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন