২১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে ইইউ কমিশনা ইলভা জোহানসন। ছবি: রয়টার্স
২১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে ইইউ কমিশনা ইলভা জোহানসন। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন আবারও বলেছেন ইউরোপের সীমান্তগুলোতে যেকোনো ধরনের পুশব্যাক অবৈধ। লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ইইউ সীমান্ত সুরক্ষার নিয়ে আয়োজিত একটি সম্মেলনের আগে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ভিলনিয়াসে সীমান্তে অভিবাসীদের পুনরুদ্ধারকে 'অবৈধ' বলে নিন্দা করেছেন তিনি। লাটভিয়া এবং পোল্যান্ডের মতো লিথুয়ানিয়া গ্রীষ্মকাল থেকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা চাওয়া ব্যক্তিদের পুশব্যাক করেছে।

শুক্রবার ২১ জানুয়ারি, লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ইইউ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবৈধ পুশব্যাকের কথা উঠে এসেছে। সম্মেলনে ১৪টি সদস্য দেশের মন্ত্রীদের সামনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন বলেছেন, “যেকোনো প্রকার পুশব্যাক স্পষ্টতই অবৈধ।”


উল্লেখ্য সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লাটভিয়া এবং পোল্যান্ডের মতো লিথুয়ানিয়াও অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বহিষ্কারের লক্ষ্যে পুশব্যাকের ঘটনা ঘটছে।

সীমান্তে অভিবাসন সংকটের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসী বেলারুশ হয়ে পোল্যান্ড ও লাটভিয়ার মতো লিথুয়ানিয়াতেও প্রবেশ করে। অভিবাসন সংস্থাগুলির মতে, লিথুয়ানিয়া প্রায় ৮,২০০ লোককে বেআইনি পুশব্যাক করে দেশটিতে অভিবাসীদের প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়া হয়েছে।

দেয়াল এবং কাঁটাতারের বেড়া

লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং পোলিশ সরকার পুশব্যাককে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে। দেশগুলোর মতে, সীমান্ত রক্ষা করতে এটিই একমাত্র সম্ভাব্য উপায়। 

এই তিনটি দেশ তাদের সাথে থাকা বেলারুশ সীমান্তে দেয়াল ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরির অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় বিভিন্ন দপ্তরকে অনুরোধ করেছে। 

ইতিমধ্যে বেলারুশ সরকারের নীতিকে জবরদখল ও অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে প্রতিবাদ এবং নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউসহ পশ্চিমা দেশগুলো। 


কিন্তু ইলভা জোহানসন এই অর্থায়নের বিরোধিতা করে বলেছেন, “সদস্য দেশগুলো বেড়া নির্মাণ করতে চাইলে তারা তা করতে পারে। তবে ইইউ কমিশনের অবস্থান হচ্ছে, সীমানা দেয়াল বা কাঁটাতারের জন্য কোনো প্রকার অর্থায়ন ইইউ কমিশন করবে না। এটি কমিশনের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত।"

এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বেলারুশের সাথে থাকা ইইউ দেশগুলোর সীমান্তে অবৈধ পারাপারের প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু লিথুয়ানিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাগনে বিলোটাইটের মতে, “শুক্রবার ১৪টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা সীমান্ত পরিদর্শন করে সেখানে শান্ত পরিস্থিতি দেখেছেন, যা 'বিভ্রান্তিকর’।”

তিনি আরও বলেন, “বেলারুশের সীমান্ত থেকে আসা জোরপূর্বক অভিবাসী আগমন নিয়ে আমাদের সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আমাদের সৈন্যদের মতে, অভিবাসীদের একটি দল যে কোনও সময় সীমান্তে উপস্থিত হতে পারে।”

হাজার হাজার অভিবাসী বন্দী

লিথুয়ানিয়ায় অভিবাসীদের প্রথম আগমনের ছয় মাস পার হলেও সেখানে এখনও হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন কেন্দ্রে বন্দী রয়েছে। গত ডিসেম্বরে, দেশটির সংসদ সদস্যরা একটি আইন পাস করেছে যাতে অভিবাসীদের আটকের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো সম্ভব হয়।

গত বছর অভিবাসন সংকটের সময় অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা, প্রায় চার হাজার লোককে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি করতে অভিবাসীদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে ভিলনিয়াস। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অভিবাসীদের নগদ এক হাজার ইউরো এবং একটি ফ্রি বিমান টিকিট দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। 

কিন্তু মাত্র ৪৮২ জন অভিবাসী এখনও পর্যন্ত এই প্রস্তাব গ্রহণ করে ফিরে যেতে রাজী হয়েছে। লিথুয়ানিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে ফরাসি দৈনিক লা লিবেরাশিঁও জানিয়েছে, “লিথুয়ানিয়া-বেলারুশ সীমান্ত অতিক্রম করে আসা অভিবাসীদের মধ্যে কেবলমাত্র ৮৭ জন বিদেশীর আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর করে রিফিউজি স্ট্যাটাস বা শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হয়েছে। বাকি ৩,১৮৯ টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।”


এমএইউ/আরআর 



 

অন্যান্য প্রতিবেদন