লিবিয়া থেকে প্রায়ই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করেন। ফাইল ফটো। এসওএস মেডিটারিয়ান
লিবিয়া থেকে প্রায়ই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করেন। ফাইল ফটো। এসওএস মেডিটারিয়ান

লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উপর হওয়া নির্যাতনকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ইটালির বেসরকারি সংস্থা স্ট্রালি, নেদারল্যান্ডসের আপরাইট এবং ফ্রান্সের আদালা ফর অল-এর দাবি, "লিবিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল সময়ে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে তা যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য।"  

এনজিওগুলোর দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের উপর চালানো নির্যানের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ধারা ৮ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং ধারা ৭ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বিবেচনায় নিয়ে তা তদন্ত করা উচিত। 

সংস্থাগুলোর সন্দেহ, মাল্টা এবং ইটালির নিরাপত্তারক্ষীরাও লিবিয়াকে এ ধরনের কাজে সহযোগিতা দিয়ে থাকতে পারে। 

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আশ্রয়প্রার্থীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করে থাকেন। এসকল অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগে আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় আশ্রয় নেন এবং দেশটির উপকূল থেকে নৌকাযোগে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের উপর যৌন হয়রানিসহ অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। গত বছর সমুদ্রে ভাসমান শরর্ণাথীকে লক্ষ্য করে লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষীরা গুলি ছুঁড়ছে এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।    

লিবিয়ার বেসরকারি সংস্থা লিবিয়ান ক্রাইমস ওয়াচ জানায়, চলতি মাসে ত্রিপোলির নিকটবর্তী এক আশ্রয়কেন্দ্রে আটক মরক্কোর এক অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ সংস্থাটির। 

তাছাড়া ওই কেন্দ্রটিতে আরো এক আশ্রয়প্রার্থীর নিহত হওয়ার কথা জানায় সংবাদমাধ্যম লিবিয়া রিভিউ। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করা এক আবেদনে সংস্থাগুলো লিবিয়ার নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে আটককেন্দ্রে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী নারী, পুরুষ ও শিশুর উপর নির্যাতনের অভিযোগ করে।   

 সংস্থাগুলোর আরো অভিযোগ, লিবিয়ার নিরাপত্তারক্ষীরা সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে আটক হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের উপর শারীরিক নির্যাতন, জোর করে কাজ করানো, যৌন হয়রানি ও হত্যাসহ নানা ধরনের নির্যাতন করে থাকে।  

আটককেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা, লিবিয়ার উপকুলরক্ষী এবং অবৈধ উপায়ে অভিবাসন ঠেকাতে নিয়োজিত সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়। 

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা এসকল সংস্থার দাবি, ইটালির সমুদ্ররক্ষীরা লিবিয়ান কোস্টগার্ডকে সমুদ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক করতে এবং তাদেরকে আটককেন্দ্রে নিয়ে যেতে কয়েক বছর ধরে সহযোগিতা। 

একই অভিযোগ আনা হয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ মালটার বিরুদ্ধেও। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মালটার সমুদ্ররক্ষীরাও লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সহযোগিতা করছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধভাবে ফেরত পাঠাচ্ছে।   

ফ্রান্সের বেসরকারি সংস্থা আদালা ফর অল-এর একজন কর্মকর্তা রমাদান আমানি বলেন, "ইউরোপের দরজায় এমন অপরাধ সংগঠিত হওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।"


মারিওন ম্যাকগ্রেগর/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন