মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া আফগান শরণার্থীরা। ছবি: Press release Universidad Camilo José Cela
মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া আফগান শরণার্থীরা। ছবি: Press release Universidad Camilo José Cela

আফগানিস্তান থেকে আসা ৪০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে পড়াশোনার সুযোগ দিয়েছে মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

ভর্তি হওয়া এ শিক্ষার্থীরা মাদ্রিদের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভকেশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ পাবে। 

গত পাঁচ বছর ধরে অভিবাসীদের এমন সুযোগ দিচ্ছে স্পেনের মাদ্রিদ শহরের কামিলো হোসে সেলা নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ইন্টিগ্রা নামের একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় তাদেরকে এই সুযোগ দেওয়া হয়।

 ইন্টিগ্রা হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইরসমাস প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত একটি বিশেষ কর্মসূচি যার লক্ষ্য লাইফ লং লার্নিংয়ে আগ্রহীদের সহযোগিতা দেওয়া।      

উচ্চশিক্ষার প্রত্যাশা

ইন্টিগ্রা কর্মসূচির আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ভালো ফলাফল করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অনেক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। অথবা বৃত্তিমূলক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। 

এই কর্মসূচির আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একজন নাসরাতউল্লাহ জাবারখিল। ইতিমধ্যে স্পেনিশ ভাষা ভালোই রপ্ত করেছেন তিনি। ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসরাতউল্লাহ আইন বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানান। 

"আইন নিয়ে পড়াতে চাই আমি। কারণ এর ফলে দেশটিতে সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব। তাছাড়া কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও পড়াশোনার ইচ্ছা আছে আমার। কারণ প্রযুক্তিগত বিষয় সবসময়ই আমার পছন্দের।"  

আরেক শিক্ষার্থী নাসির রাহিমি জানান, তিনি স্পেনিশ ভাষা আরো ভালো করে রপ্ত করতে চান যেন চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারেন। 

বিশ্ববিদ্যারয়ের পরিচালক ইগনাসিও সেল ত্রুখিও বলেন, "জীবিকার সন্ধানেই এই তরুণেরা এখানে এসেছেন। আর তাই আমরা ভাবলাম, দক্ষতা বাড়াতে পড়াশোনা করানো গেলে, তারা দ্রুতই চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।"

ইউরোনিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সারে ১০ জন শিক্ষাথী এখান থেকে পড়াশোনা করেছে। আর চলতি বছরের ব্যাচটি ২০২১ সালের নভেম্বরে ভাষা শিক্ষা ক্লাস শুরু করেছে। 

ভর্তি হওয়া ৪০ জনের মধ্যে ১৬ জন নারী এবং ২৪ জন পুরুষ। গত আগস্টে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর দেশ ছাড়েন তারা।  

উল্লেখ্য তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আরো অনেক পশ্চিমা দেশের মতো স্পেন সরকারও দেশ ছাড়তে চাওয়া আফগানদের সরিয়ে আনে। সেসময় মোট দুই হাজার ৪০০ আফগানকে কাবুল থেকে স্পেনে নিয়ে আস হয়। 

ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়টি এসকল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নানা ধরনের সহযোগিতা করবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতেও নানা ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানা গেছে। 

সিরিয়া, ইউক্রেন, ইরাকের অনেক আশ্রয়প্রার্থী ওই কর্মসূচীর আওতায় বিশ্বদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করেছেন। পরে তাদের অনেকেই ট্রান্সপোর্ট সায়েন্স, লজিস্টিকস, সিনেমা, আইন, খেলাধুলা ও নার্সিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।


এমা ওয়ালিস/আরআর

 

অন্যান্য প্রতিবেদন