উত্তর ফ্রান্সের কালে'র নিকটে ইংলিশ চ্যানেলে তীরবর্তী টানেলে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লাইনে থাকা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি। এসব গাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন অভিবাসীরা। ছবি: রয়টার্স
উত্তর ফ্রান্সের কালে'র নিকটে ইংলিশ চ্যানেলে তীরবর্তী টানেলে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লাইনে থাকা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি। এসব গাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন অভিবাসীরা। ছবি: রয়টার্স

বেলজিয়াম থেকে ফ্রান্সগামী একটি পণ্যবাহী ফ্রিজিং ট্রাকের চালক শুক্রবার পুলিশকে জানান তার গাড়ির পিছনে কিছু লোক ঢুকে পড়েছে। পুলিশ ট্রাকে থাকা একটি পরিবারসহ সাত ইরাকি অভিবাসীকে উদ্ধার করে। ট্রাকের ভেতর অত্যন্ত ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও সবাইকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র ও স্থানীয় কৌঁসুলি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন যে “২১ জানুয়ারি শুক্রবার গ্রন্দ-সান্থ অঞ্চলের এ১৬ মোটরওয়েতে একটি ফ্রিজিং ট্রাক থেকে সাতজন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় ফরাসি পুলিশের একটি দল। উদ্ধারকৃতরা সবাই সুস্থ আছেন। ভারি পণ্যবাহী গাড়িটির চালক গাড়ির পেছনে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে ভেতরে মানুষের উপস্থিতি বুঝতে পেরেছিলেন।” 

ট্রাক চালক জানান, তিনি ফ্রান্সে আসার সময় যাত্রা পথে বেলজিয়ামের একটি এলাকায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। সম্ভবত অভিবাসীরা সেখান থেকেই চালকের অজান্তে ট্রাকে উঠে পড়ে।

উত্তর ফ্রান্সের জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় দপ্তর স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক লা ভোয়া দ্যু নর্দকে জানায়, “শুক্রবার আনুমানিক রাত ১১ দিকে পুলিশ একটি ১৪ বছর বয়সি ছেলের সাথে থাকা একটি পরিবারসহ মোট সাত জন ইরাকি অভিবাসীকে ট্রাকের মধ্যে খুঁজে পায়। ট্রাকের ভেতরের তাপমাত্রা ছিল -২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি৷ তাসত্ত্বেও অভিবাসীরা ট্রাকটির ভেতরে লুকিয়ে ছিল।”

আঞ্চলিক দৈনিকটি আরও লিখেছে, “ভেতরে থাকা অভিবাসীরা ঠান্ডায় জমে গিয়েছিলেন এবং গাড়ির ভেতরের দেয়ালে জোরে জোরে আঘাত করেছিলেন যাতে করে চালক শুনতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে।”

উদ্ধারের পর সাতজনের মধ্যে অবশ্য হাইপোথারমিয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উত্তর ফ্রান্সের ডানকের্কের পাবলিক প্রসিকিউটর সেবাস্তিয়া পিয়ে বলেছেন, “৫২ বছর বয়সি চালকেও, যিনি পুলিশকে ইরাকিদের কথা জানিয়েছিলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল৷ পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।”

প্রসঙ্গত, গত কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অভিবাসীদের উদ্ধার করা ইউরোপ জুড়ে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে এভাবে পরিবহনের ভেতরে করে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ২০২০ সালে ৩৯ জন ভিয়েতনামি অভিবাসী বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে ট্রাকে শ্বাস নিতে না পেরে মারা গিয়েছিলেন। 

এসব গাড়ির ভেতরে অভিবাসীরা শ্বাসরোধ, হাইপোথারমিয়াসহ বিভিন্ন কারণে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ফ্রিজিং গাড়ির ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। 


এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন