নাইজারে অবস্থানরত কয়েকজন অভিবাসী। ছবি: মেহেদি শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস
নাইজারে অবস্থানরত কয়েকজন অভিবাসী। ছবি: মেহেদি শেবিল/ইনফোমাইগ্রেন্টস

নাইজারে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসী পাচারের একটি নেটওয়ার্ককে ভেঙে দেয়া হয়েছে৷ বুধবার দেশটির নিয়াম এবং মারাডি শহর থেকে প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ফরাসি, স্প্যানিশ এবং নাইজার পুলিশের যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়৷

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসী চোরাচালানে জড়িত একটি নেটিওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে নাইজার৷ দেশটির পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির ভূখন্ড ব্যবহার করে ইউরোপে মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিশ জন সদস্যকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ 

অভিযুক্তদের মূলত কয়েক দিন ধরে চলা নাইজার, ফরাসি এবং স্প্যানিশ পুলিশের যৌথ তদন্তের অংশ হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

নাইজার পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘দক্ষিণ নাইজারের শহর নিয়াম এবং মারাডি থেকে মোট বিশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তাদের কাছ থেকে প্রচুর জিনিসপত্র এবং ভুয়া নথি জব্দ করা হয়েছে।”

তিন দেশের পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম সম্পর্কে নজরদারি চালাচ্ছিল৷ যার ফলে কোন কোন দেশ থেকে অভিবাসীরা নাইজার হয়ে ইউরোপের দিকে পাচার হন সেটি বের করা সম্ভব হয়েছে৷ 

নাইজার পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, পাচারকারী নেটওয়ার্কটির সদস্যরা আইভরি কোস্ট, বেনিন, টোগো, নাইজার, নাইজেরিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে মানবপাচার করত৷

পুলিশের মতে, ভেঙে দেওয়া নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে চলত৷ অভিযানের পর গ্রুপের কিছু সদস্যদের কাছে থেকে অনেক পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথি আকাশ পথে প্রতারণামূলক ভ্রমণের পথ সহজতর করত৷ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শুধুমাত্র মিথ্যা প্রশাসনিক এবং ব্যক্তিগত নথি তৈরি করত৷’’

এছাড়া তাদের কাছ থেকে পাচারে ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে৷ জব্দকৃত জিনিসের মধ্যে রয়েছে, ভ্রমণ এবং বসবাসের অনুমতিপত্র, সর্বশেষ প্রযুক্তির আধুনিক কম্পিউটার সরঞ্জাম, নাগরিক সনদপত্রের মিথ্যা নথি, ভুয়া কোভিড টিকা সনদ ও নকল পিসিআর টেস্ট সনদ, একটি ভুয়া লাইসেন্স প্লেটসহ চারটি গাড়ি৷

নাইজারসহ পার্শ্ববর্তী দেশ আলজেরিয়া, মরোক্কো হয়ে সক্রিয় শত শত পাচার চক্র৷ আফ্রিকানরাও ছাড়াও বহু বাংলাদেশি, পাকিস্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসীরা এসব চক্রের ভুক্তভোগী৷ 


এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন