ট্রেন লাইনে নিহত অভিবাসীদের মৃতদেহ উদ্ধাররত স্থানীয় পুলিশ। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স
ট্রেন লাইনে নিহত অভিবাসীদের মৃতদেহ উদ্ধাররত স্থানীয় পুলিশ। ছবিঃ পিকচার এলায়েন্স

গত বছরের অক্টোবরে ফ্রান্স-স্পেনের সীমান্তবর্তী সিবুর শহরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা একমাত্র অভিবাসী দেশটিতে থাকার অনুমতি দিয়েছে ফ্রান্স৷ দুর্ঘটনায় তিন অভিবাসী নিহত হয়েছিলেন৷

দক্ষিণ পশ্চিম ফ্রান্সের সিবুর শহরে ১২ অক্টোবর ২০২১ তারিখে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় বেঁচে যান এক আলজেরীয় অভিবাসী।  

সেদিন ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারাণ তার সাথে থাকা অন্য তিন অভিবাসী। চতুর্থ ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলেও সেদিন বেঁচে যান। তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

ফরাসি সংবাদ মাধ্যম বিএফম টিভি জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি একজন অনিয়মিত অভিবাসী হওয়ায় তিনি ফ্রান্সে বৈধ অভিবাসী ছিলেন না। স্থানীয় পিরেনে আটলান্টিক প্রেফেকচুর কর্তৃপক্ষ ২০ জানুয়ারি তাকে দেশটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে৷ বসবাসের জন্য দেওয়া এ অস্থায়ী অনুমতি নবায়ন করার সুযোগ আছে বলে জানা গেছে৷ 

প্রেফেকচুর স্থানীয় দৈনিক সুদ-ওয়েস্ট কে জানায়, “২০ জানুয়ারি মঞ্জুর করা বসবাসের অনুমতি ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে।” 

সাধারনত ফ্রান্সে যেকোন অভিবাসী সংশ্লিষ্ট প্রেফেকচুর থেকে বসবাসের অনুমতি পেলে প্রথম অবস্থায় চার বা ছয় মাস মেয়াদী একটি অস্থায়ী রিসিপিসি বা অনুমতিপত্র দেয়া হয়। যেটি নবায়ন করে পরবর্তীতে রেসিডেন্স কার্ড বা কার্ড-দ্যু-সিজ্যুর দেয়া হয়। 

দুর্ঘটনায় বারবার চারজনের কথা আলোচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে পুলিশের হাত থেকে গ্রেফতার এড়াতে সেদিন রাতে মোট পাঁচজন আলেজেরীয় অভিবাসী সেন্ট-জঁ- দ্যু-লুজ স্টেশন থেকে কয়েক মিটার দূরে থাকা ট্রেল লাইনের পাশে শুয়ে পড়েছিলেন। 

উপায় না দেখে পরবর্তীতে তারা সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে্ন। ভোর ৫টর দিকে নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হলে হেনদায় শহর থেকে আসা একটি টিইআর ট্রেন ধাক্কা দেয় ঘুমন্ত ব্যক্তিদের। 

অভিবাসীদের সাথে থাকা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি ট্রেন আসার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে দ্রুত একটু দূরে সরে গিয়েছিলেন। ঘটনার দুই দিন পরে ফ্রান্সের বায়োন শহরের টহল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। 

তদন্তকারী দল তার জবানবন্দি শুনে পরে তাকে ছেড়ে দেয়। 

বেঁচে থাকা এই পঞ্চম ব্যক্তির ভূমিকা এখনও অনেকের কাছে অস্পষ্ট৷ 

তিনি ডিসেম্বরের শুরুতে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা, জীবন বিপন্ন করে অনিচ্ছাকৃত আঘাত এবং ক্ষতিকারক কার্যক্রমের অভিযোগ দায়ের করেন। 

তার মতে, ‘‘চারজন অভিবাসীই যে ঘুমিয়ে পড়েছে তা কল্পনাতীত। ট্রেন লাইনে ঘুমিয়ে পড়া অবিশ্বাস্য। বেশ কয়েকদিন ধরেই আমরা একসঙ্গে স্পেন থেকে ফ্রান্সের অভিবাসন রুটে ছিলাম।’’ 

তার আইনজীবি মি লাসোর্ট বলেন, “রাতে ঘুমানোর সময় তারা সবসময় একজনকে নজরদারির জন্য রাখত। তারা কি ঘুমিয়ে পড়েছিল, নাকি তাদের ঘুমিয়ে রাখা হয়েছিল?”

এই অভিযোগের অংশ হিসাবে, নিহতদের মধ্যে সম্ভাব্য সাইকোট্রপিক জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি সনাক্ত করতে বায়োনের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস থেকে উচ্চতর রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পরে ফলাফল আসতে পারে। 


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন