সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ার বাইরে পৌরনারা আশ্রয়কেন্দ্রে নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষায় অভিবাসীদের একটি দল৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ার বাইরে পৌরনারা আশ্রয়কেন্দ্রে নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষায় অভিবাসীদের একটি দল৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

যেসব অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়েছে তাদেরকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রনটেক্সের সহায়তায় দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে সাইপ্রাস৷ এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেছে দেশটি৷ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়েছেন৷

আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসেডিউর (এসওপি) চূড়ান্ত করেছে সাইপ্রাস৷ সামনের মাসগুলোতে স্বেচ্ছা ও জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে দেশটির সরকার৷ এই প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজও চলবে৷ মঙ্গলবার সাইপ্রাসের মন্ত্রী নিকোস নুরিস ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্সের প্রধান বিটে গেমাইন্ডারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান৷ এর আগে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া বিষয়ক একটি চুক্তি সাক্ষর করেন তারা৷ 

ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন ব্যাপক হারে বেড়েছে৷ জানুয়ারিতে নতুন আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে এক হাজার ৩৩৫টি যা দুই বছর আগের একই মাসের তুলনায় দ্বিগুণ৷ নুরিস জানান, গত বছর তারা মোট ১৩ হাজার ২৩৫টি নতুন আশ্রয় আবেদন পেয়েছেন৷ সব মিলিয়ে ২০২১ সালে তারা ১৬ হাজার আবেদন পরীক্ষা করেছেন যার মধ্যে ১৩ হাজারটিই বাতিল করে দিয়েছেন৷ অর্থাৎ, অভিবাসীদের মোট আশ্রয় আবেদনের ৮০ শতাংশই প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ৷ 

নুরিস জানান, আশ্রয় আবেদনকারীদের ৮৫ শতাংশ প্রথমে দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেন৷ জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত বাফার জোন বা নিরাপদ অঞ্চল পেরিয়ে তারা সাইপ্রাসে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেন৷ 

অভিবাসী আগমনের জন্য আগে থেকেই তুরস্ককে দায়ী করছে আসছে সাইপ্রাসের সরকার৷ নুরিস জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আসা অভিবাসীদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলের৷ তার অভিযোগ, এই অভিবাসীরা ইস্তানবুল বিমানবন্দর বা তুরস্কের দক্ষিণের সমুদ্র বন্দর থেকে বাফার জোনে এসেছেন৷ এরপর সেখান থেকে দ্বীপের ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশে প্রবেশ করেন৷ 

এদিকে আগের চেয়ে বেশি অভিবাসী আগমনের কারণে দেশটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করেছে৷ এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতিরিক্ত তহবিল যোগান দিবে বল আশ্বাস দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্সের প্রধান বিটে গেমাইন্ডার৷

এফএস/কেএম (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন