ক্যানসারে আক্রান্ত ঘানার অভিবাসী ২৫ বছরের জন (ছবিতে ডান দিকে)৷ ছবি: গিয়ান মারিও কোট্টি, ফেসবুক থেকে
ক্যানসারে আক্রান্ত ঘানার অভিবাসী ২৫ বছরের জন (ছবিতে ডান দিকে)৷ ছবি: গিয়ান মারিও কোট্টি, ফেসবুক থেকে

খুব অল্প বয়সে ক্যান্সার আক্রান্ত এক অভিবাসীর শেষ ইচ্ছা ছিল ঘানায় নিজের পরিবারকে একবার দেখে আসা৷ ইটালির এক গ্রামের মানুষ তার বিমান যাত্রার ভাড়া সংগ্রহ করে দেয়৷ গত রোববারের প্রার্থনায় পোপ সবাইকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন৷

ক্যানসারে আক্রান্ত হন অভিবাসী এক তরুণ৷ মারণ রোগ বাসা বেঁধেছিল তার শরীরে৷ সেই সময় শুধু তার বাবাকে আলিঙ্গন করার জন্য ইটালি থেকে নিজের বাড়ি ঘানাতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি৷ উত্তর ইতালির একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দারা তার ইচ্ছা পূরণের জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন৷ ভ্যাটিকানে গত রবিবারের প্রার্থনার সময় পোপ ফ্রান্সিস এই ঘটনার কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন৷

অভিবাসী তরুণের ঘটনা

জন নামে ঘানার এই ২৫ বছরের তরুণ কয়েক বছর আগে লাম্পেদুসা দ্বীপে এসে পৌঁছেছিলেন৷ নিজের দেশ থেকে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে ইটালির মনফেরাত্তো গ্রামে থাকতে শুরু করেছিলেন৷ পোপ জানান, স্থানীয় একটি আঙুর খেতে কাজ পেয়েছিলেন জন৷ কিন্তু লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ করতে পারছিলেন না আর৷ তার টিউমার বেড়ে গিয়েছিল, থেরাপিতে কাজ হচ্ছিল না৷ কাসালে মনফেরাত্তোর একটি মেডিকেল কেয়ারে চিকিৎসা চলছিল তার৷ 

ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী জন তার চিকিৎসক, নার্স, মনোবিদ–প্রত্যেককে বলেছিলেন তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান৷ একবার জড়িয়ে ধরতে চান নিজের পরিবারের সবাইকে৷ বাবা এবং ভাইদের একবার দেখতে চেয়েছিলেন জন৷

ঘানা যাওয়ার খরচ

এই তরুণ অভিবাসীর ইচ্ছাপূরণে ইটালির একটি গ্রাম পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল৷ স্থানীয়রা তাকে ঘানা নিয়ে যেতে এবং তার সঙ্গে আরও একজনকে ঘানা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল বলে জানা গিয়েছে৷ জনের বিমানযাত্রা এবং ওষুধের খরচও তুলেছিল তারা৷ 

ঘানায় পৌঁছে জন একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ওই গ্রামের মেয়র টিনা করোনা এবং কাউন্সিলর গিয়ান মারিও কোট্টিকে৷ জন বলেছিলেন, ‘‘আমি ভাল আছি৷ আগের চেয়ে অনেকটা ভাল৷ আমরা পৌঁছে গিয়েছি৷ অসংখ্য ধন্যবাদ প্রত্যেককে৷ ভিগনালে (মনফেরাত্তো), আমার পরিবার এবং সবার জন্য আন্তরিক শুভ কামনা রইল৷’’

ইতিবাচক উদাহরণ

গাব্রিয়েলা গউদিও নামে এক নারীর মালিকানাধীন খামারে কাজ করতেন জনের এক সময়ের হাউসমেট৷ কঠিন সময়ে তিনি জনের পাশে ছিলেন৷ তিনি বলেন,‘‘যখনই জানতে পেরেছিলাম৷ ওকে একা থাকতে দিইনি৷ আমি কখনও ভুলব না, ও যখন গুডবাই জানিয়ে ফিরে গেল, আমায় জড়িয়ে জন বলেছিল আমি ওর মা৷’’ ১১ বছর বয়সে জন মাকে হারান৷

গউদিও বলেন, ‘‘যন্ত্রণা-কষ্ট এ সব সত্ত্বেও জন একজন প্রকৃত ভাল মানুষ৷ যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল জন, তারপরও কোনওকিছু ওকে ছুঁতে পারেনি৷ ১৪ বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ও লিবিয়ায় ছিল৷ তারপর লাম্পেদুসায় এসে পৌঁছায়৷ ওর শরীরের মতো মনেও ছিল একাধিক ক্ষত৷ একটি সমবায় সংস্থা ওকে ভিগনেলে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল, যাতে সে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে৷’’

মেয়রের চোখে জল জনের জন্য৷ তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা ওকে একা ছেড়ে দিইনি৷ আমার গোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে আমি গর্বিত৷ যদি ভিগনেলের তৈরি করে দেওয়া এই দৃষ্টান্ত অন্যদের উৎসাহিত করে, সেটাই আসল৷ ভাল জিনিস অনুকরণ করা সবসময়ই ভাল৷’’

আরকেসি/কেএম (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন