গত বছর ফেরত পাঠানোদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জর্জিয়া৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
গত বছর ফেরত পাঠানোদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জর্জিয়া৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

২০২১ সালে জার্মানি থেকে অভিবাসীদের জোর করে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে৷ তবে করোনা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক৷ ২০২১ সালে ফেরত পাঠানোদের মধ্যে শীর্ষে আছেন জর্জিয়া ও আলবেনিয়ার নাগরিকরা৷

আশ্রয় আবেদন বতিল হওয়া ১১ হাজার ৯৮২ জনকে গত বছরে বিভিন্ন দেশে ফেরত পাঠিয়েছে জার্মানি৷ ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৮০০৷ প্রত্যাবাসনের সংখ্যা প্রায় বারশো বৃদ্ধি পেলেও তা ২০১৯ সালের তুলনায় অনেক কম৷ করোনার প্রকোপ শুরুর আগের বছরে মোট ২২ হাজার ১০০ জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছিল দেশটি৷ জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে৷ 

গত বছর ফেরত পাঠানোদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জর্জিয়া৷ দেশটির এক হাজার ১১৬ জনকে দেশে পাঠিয়েছে জার্মানি৷ আলবেনিয়ায় ফেরত গেছেন ৯০৮ জন৷ প্রায় ৪০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তুরস্ক ও কসোভোতে৷ এই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশিরাও৷ পাশাপাশি সার্বিয়া, পাকিস্তান, মলডোভা ও রোমানিয়াতেও গত বছর প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে৷

তালিকায় থাকা ৪৭০ জন সিরিয়ান নাগরিককে নিজ দেশের বদলে তাদের পূর্বে অবস্থান করা দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ স্বেচ্ছায় যেতে না চাইলে সিরিয়ানদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, জার্মান সরকারের এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে৷

পড়ুন: এক বছরে শতাধিক বাংলাদেশিকে জোর করে ফেরত পাঠালো জার্মানি

দেশটির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ফেরত পাঠানো হয়েছে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া থেকে৷ দুই হাজার ৯০০ জন এই অঞ্চল থেকে প্রত্যাবাসনের শিকার হয়েছেন৷ বার্লিন রাজ্য ফেরত পাঠিয়েছে ৯৫৯ জনকে৷

উল্লেখ্য, আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া বা অনুমতি ছাড়া জার্মানিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে অথবা ইউরোপের যে দেশের উপর তাদের দায়িত্ব বর্তায় সে দেশে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ৷ এক্ষেত্রে কেউ স্বেচ্ছায় যেতে না চাইলে ফ্লাইট ভাড়া করে তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানো হয়৷ 

জার্মানির জোট সরকার গত বছর ঘোষণা করেছিল, যাদের থাকার অনুমতি নেই তাদের ফেরত পাঠাতে তহবিল বাড়ানো হবে৷ এক্ষেত্রে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর চেয়ে স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার উপর বেশি জোর দিতে চাইছে সরকার৷ তবে অপরাধী ও ঝুঁকিপূর্ণদের ক্ষেত্রে ‘আক্রমণাত্মক প্রক্রিয়া’ গ্রহণেরও পরিকল্পনা নেয়া হয়৷

যেসব দেশ থেকে অভিবাসীরা আসছেন তাদের সঙ্গে চুক্তি করারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে নতুন সরকার৷ 

এফএস/এআই (ডিপিএ) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন