(ফাইল ছবি) বেলারুশ সীমান্তের নিকটে পোল্যান্ডের 'ওয়েড্রাইন' আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে পুলিশের অবস্থান। ছবি: স্থানীয় লুবস্কা পুলিশের ইউটিউব ভিডিও থেকে নেয়া স্ক্রীনশট।
(ফাইল ছবি) বেলারুশ সীমান্তের নিকটে পোল্যান্ডের 'ওয়েড্রাইন' আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে পুলিশের অবস্থান। ছবি: স্থানীয় লুবস্কা পুলিশের ইউটিউব ভিডিও থেকে নেয়া স্ক্রীনশট।

স্থান সংকুলান না হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি এবং যথাযথ যত্নের অভাবসহ পোল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীদের সাথে নানা ধরনের অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিদেশিদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকা এমন বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে পোলিশ মানবাধিকার কমিশনের দেয়া প্রতিবেদনগুলোর পরিণতি ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

বেলারুশ সীমান্তে আটকে থাকা হাজার হাজার অভিবাসী এখন আর নেই। তাদের একটি অংশ ফিরে গেছে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে।  

পরিস্থিতির বেশ অনেকটা পরিবর্তন হলেও বেলারুশ হয়ে পোল্যান্ডে আসা ইরাক ও সিরিয়ার ১,৭৫০ জন নাগরিকের বেশিরভাগই এখন পোল্যান্ডের ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন।  

অভিযোগ আছে, এসব আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা কোথাও বের হতে পারেন না। তাদেরকে সবসময় ক্যাম্পের নির্দিষ্ট সীমানায় থাকতে হয়। তাছাড়া এসকল ক্যাম্পে সাংবাদিকসহ বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ৷

বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে পোলিশ কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস মার্সিন ওয়াসেক সার্বিক পরিস্থিতি পোল্যান্ডের আদালতকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেন।  

আদালতকে দেয়া চিঠিতে মার্সিন ওয়াসেক জানান, ঠাণ্ডা এবং খারাপ আবহাওয়া থেকে উদ্ধার হওয়া আশ্রয়প্রার্থীরা এখনও অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণের সম্মুখিন হচ্ছেন। 

২০২১ সালের আগস্ট থেকে সরকারি এই ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র ছয়মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করে পোল্যান্ডের নিরপেক্ষ জাতীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার একটি দল।  

পড়ুন>>যেকোনো ধরনের পুশব্যাক অবৈধ: ইইউ স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার

সরকার পরিচালিত এই ছয়টি আটককেন্দ্র পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পরিদর্শন করেছিল। 

পর্যবেক্ষক দলের সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন পোলিশ কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস মার্সিন ওয়াইসেক।

 ছয় মাস তদন্তের পরে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আটককেন্দ্রে পরিণত হওয়া এসব কাঠামোতে অতিরিক্ত লোক রাখা হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীরা এসব কেন্দ্রে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগ না রাখা সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীর্ঘ তালিকা উঠে এসেছে।

মার্সিন ওয়াইসেকের মতে, “এই কাঠামোগুলোতে প্রদত্ত চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। অভিবাসীদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক অভিবাসী তাদের নিজ দেশ থেকেই খারাপ স্বাস্থ্য নিয়ে আসার কারণে ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বন্দী অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের মানসিক এবং শারীরিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এটি পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে সংকট শুরুর অনেক আগেই প্রমাণিত। গত বছর অভিবাসন সংকটের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।”

মার্সিন ওয়াইসেকের মতে, “এসব আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অভিবাসীরা বের হতে না পারায় সেগুলো অনেকটাই আটককেন্দ্র বা কারাগারে রুপ নিয়েছে। সার্বক্ষণিক প্রহরী থাকা এসব কেন্দ্রের বিদ্যমান অবস্থার কারণে সেগুলো কোনভাবেই শিশুদের জন্য উপযুক্ত স্থান নয়। এই পরিস্থিতি সেখানে থাকা শিশুদের মানসিক বিকাশের উপর নিশ্চিতভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

ছয়টি বিতর্কিত আটককেন্দ্র ছাড়াও পোল্যান্ড তার অভিবাসনবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। যদিও রয়টার্সের মতে চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিদিন মাত্র কয়েক ডজন অভিবাসী বেলারুশের সাথে থাকা পোল্যান্ড সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। যেটি পূর্বের তুলনায় একেবারেই অপ্রতূল। তবুও সীমান্তে অভিবাসী ঠেকাতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।



এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন