সেনেগাল উপকূল থেকে মানব পাচারে ব্যবহৃত অস্থায়ী নৌকা। ছবি: RFI/Charlotte Idrac
সেনেগাল উপকূল থেকে মানব পাচারে ব্যবহৃত অস্থায়ী নৌকা। ছবি: RFI/Charlotte Idrac

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে । পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনেগাল উপকূলে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব করেছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন।

ইউরোপ অভিমূখে মানবপাচার রোধে সেনেগালের উপকূলীয় এলাকায় ইইউ বহিঃসীমান্ত নজরদারি সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব করেছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন। ১১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, সেনেগালের রাজধানী ডাকার সফরকালে এমন প্রস্তাবনা দিয়েছেন ইলভা জোহানসন।  

প্রস্তাবটি সেনেগাল কর্তৃপক্ষ যদি গ্রহণ করে, তাহলে সেটি হবে ইউরোপের বাইরে প্রথমবার ফ্রন্টেক্সের সেনা মোতায়েন। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, সেনেগাল উপকূল ছেড়ে স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারিতে অস্থায়ী নৌকায় আসা মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সেনা মোতায়েনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, মৌরিতানিয়া, আলজেরিয়া এবং লিবিয়া হয়ে দীর্ঘ পথে পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া অনিয়মিত অভিবাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ফ্রন্টেক্স এজেন্সির উপকূলরক্ষী এবং সীমান্তরক্ষীদের কারিগরি সহযোগিতা এবং নির্দেশনায় উপকূলে নজরদারি দল মোতায়েন করা হবে। উপকূলে ফ্রন্টেক্সকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে সেনেগালের জাতীয় জেন্ডারমেরি পুলিশ। 

সেনা নিযুক্ত করার পাশাপাশি ইইউ জাহাজ, কর্মী ও নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করছে। উদাহরণস্বরূপ, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার বক্তব্যে ড্রোনে নজরদারির কথাও উঠে এসেছে। 

ইউরোপের বাইরে প্রথম স্থাপনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ফ্রন্টেক্স নানা ভাবে তার শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী চার বছরের মধ্যে উপকূলরক্ষী এবং সীমান্তরক্ষী সদস্যদের সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রন্টেক্স। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

ইতিপূর্বে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কখনও ইউরোপের বাইরে সেনা মোতায়েন করা হয় নি। আগামী সপ্তাহে আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন৷ ফলে সেখানে ইউরোপে অভিবাসন ইস্যু যে অগ্রাধিকার পাবে সেটি সেনেগালকে দেয়া প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠল। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসবে পরিচিত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ৷ এখানে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যাপক হারে বৃদ্ধির কারণে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবনাটি দেয়া হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ আফ্রিকার উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হলেও আটলান্টিক পাড়ি দিতে অভিবাসীদের প্রায়শই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অস্থায়ী নৌকায় আটলান্টিক পাড়ি দিতে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটেছে বহু অভিবাসীর। 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম) -এর তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে এই রুটে ইউরোপে আসতে গিয়ে ১,২০০ জন ব্যক্তি মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছে্ন। অপরদিকে একই রুটে সক্রিয় স্প্যানিশ এনজিও ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাস জানিয়েছে, গত বছর আফ্রিকান উপকূল থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে গিয়ে ৪,৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। 

এমএইউ/আরকেসি (রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন