গ্রিস সীমান্তে অভিবাসীদের দেহ উদ্ধার করছেন তুরস্কের আধিকারিকরা৷ শৈত্যপ্রবাহে মৃত্যু হয় এই অভিবাসীদের৷ গোখন বালসি/পিকচার অ্যালায়েন্স
গ্রিস সীমান্তে অভিবাসীদের দেহ উদ্ধার করছেন তুরস্কের আধিকারিকরা৷ শৈত্যপ্রবাহে মৃত্যু হয় এই অভিবাসীদের৷ গোখন বালসি/পিকচার অ্যালায়েন্স

উন্নত জীবনের সন্ধানে এসে অভিবাসীদের মৃত্যু লজ্জাজনক, এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস৷ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন সংক্রান্ত গ্লোবাল কমপ্যাক্টে দেয়া বক্তব্যে তিনি এমনটা বলেন৷

গুতেরেস বলেন, অভিবাসন তো জীবনের একটা অংশ৷ এর সঙ্গে মানবিকতারও সম্পর্ক রয়েছে৷ সঠিকভাবে অভিবাসন নীতি প্রণয়ন না করা হলে তা মারাত্মক সমস্যা তৈরি করবে৷ কখনও এর ফলে অভিবাসীদের মৃত্যু ঘটে৷ কখনও বা অধিকারে হস্তক্ষেপ ঘটে, সামাজিক চাপও বাড়ে৷

অভিবাসীদের নিয়ে দেশগুলোকে আরো মানবিক হওয়ার কথা বলেন গুতেরেস৷ এর জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য এবং সংহতির কথাও জানান জাতিসংঘের মহাসচিব৷ যারা অভিবাসীদের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘যারা অভিবাসীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার আইনি পথের সন্ধান দেন, তাদের ধন্যবাদ৷’’

‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরাম’-এর প্রস্তুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, মহামারির সময় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অভিবাসীরা৷ অথচ, এ সময় তারা যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তা ভোলার নয়৷ এই ফোরামের প্রাথমিক লক্ষ্য, সমাজে এ নিয়ে প্রচার করা এবং কোভিড পরিষেবায় অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তি৷ 

তিনি বলেন, ‘‘অনিয়মিত অভিবাসীরা ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত৷ সামাজিক অধিকার কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকুও অনেকে পান না৷ কেউ জাতিগত বৈষম্যের শিকার হন৷ নারী ও শিশুদের পাচার এবং লিঙ্গবৈষম্যের মতো মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অনেক সময়৷ তবে অনেক দেশের সরকার নরমপন্থা নিয়েছে অভিবাসীদের নিয়ে৷ অভিবাসীদের মানবাধিকারের বিষয়টি তারা খেয়াল রাখছে৷ টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷’’

নিরাপদ এবং নিয়মিত অভিবাসনে জোর দিয়েছে জাতিসংঘ৷ মহাসচিব জানান, ‘‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরাম’-এর দ্বিতীয় লক্ষ্য হল নিয়মিত অভিবাসনের পথ প্রসারিত করা৷ অভিবাসীদের ৮০ শতাংশ নিরাপদভাবেই যাতায়াত করেন৷ তবে পাচার এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা৷ মানুষের সামান্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, চুরি হচ্ছে স্বপ্নটুকুও৷’’

অভিবাসীদের রক্ষা করা ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরাম’-এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বলেও জানান গুতেরেস৷ তার বক্তব্য, বিপর্যয় কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যারা সমস্যায় পড়েছে তাদের পাশেও থাকতে হবে৷ অভিবাসন নিয়মিত করতে শ্রমবাজারে ঘাটতির দিকে নজর দিতে বলেন তিনি৷

জাতিসংঘের হিসাবে গত সাত বছরে ৫০ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে সারা বিশ্বে৷ তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করেন গুতেরেস৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি সংখ্যাই আসলে একজন মানুষ৷ আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো সম্মান এবং জীবনে উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চান অভিবাসীরা৷ তাই এই মৃত্যুগুলি আসলে যৌথ লজ্জা৷ মর্যাদার অধিকার প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে সমান৷’’ তাই পাচার মোকাবিলায় গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি৷

‘ইউনাইটেড নেশনস নেটওয়ার্ক ফর মাইগ্রেশন’ গঠন করা হয়েছে কর্মক্ষমতা তৈরির জন্য৷ এ ছাড়াও মাইগ্রেশন নেটওয়ার্ক হাব এবং মাল্টি পার্টনার ট্রাস্ট হাব তৈরির কথাও জানান গুতেরেস৷ অভিবাসীদের জন্য বিশ্বব্যাপী সহানুভূতির প্রয়োজন৷ সবাই মিলে প্রত্যেক মানুষের অধিকার, মর্যাদা রক্ষা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি৷

আরকেসি/এফএস

 

অন্যান্য প্রতিবেদন