৩ ফেব্রুয়ারি হাঙ্গেরি-রোমানিয়া সীমান্তের মায়দান গ্রামের কাছে একদল সিরীয় অভিবাসী৷ ছবি: রয়টার্স
৩ ফেব্রুয়ারি হাঙ্গেরি-রোমানিয়া সীমান্তের মায়দান গ্রামের কাছে একদল সিরীয় অভিবাসী৷ ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসাদের জন্য সীমান্ত খোলা রাখলেও ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ক্ষেত্রে নীতির পরিবর্তন করেনি হাঙ্গেরি৷ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে এমন তথ্য জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনের শরণার্থীদের সঙ্গে অন্যদের তুলনার কড়া সমালোচনা করেছেন৷

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের পর থেকে সীমান্তবর্তী ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সেখান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে৷ এগিয়ে এসেছে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সমালোচিত হাঙ্গেরির সরকারও৷ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিয়ার্টো জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেন, ‘‘আমাদের সমস্ত সীমান্ত পয়েন্টগুলো খোলা রয়েছে, দৈনিক ২৪ ঘণ্টা সেখানে কার্যক্রম চলছে৷’’

তবে ইউক্রেন থেকেও সবাইকে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে না বুদাপেস্ট৷ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সিয়ার্টো বলেন, ‘‘আমরা ইউক্রেনীয় নাগরিকসহ যারা ইউক্রেনে বৈধভাবে বসবাস করতেন তাদেরকে আসতে দিচ্ছি এবং ভালো যত্ন নিচ্ছি৷’’ তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশটির এক লাখের বেশি শরণার্থীকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন৷ 

কট্টর অভিবাসনবিরোধী হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির সরকার অনিয়মিতভাবে আসা অভিবাসীদের প্রবেশ ও আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে৷ তবে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর দেশটিতে পড়াশোনা বা চাকরিরত তৃতীয় দেশের নাগরিকদের বিনা প্রশ্নে হাঙ্গেরিতে ঢোকার সুযোগ দিতে একটি আইন পাস করা হয়েছে বলে জানান সিয়ার্টো৷ যদিও তারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য হাঙ্গেরিতে থাকার সুযোগ পাবেন না৷ ‘‘আমরা তাদেরকে নিকটস্থ বিমানবন্দরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি যাতে তারা নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন,’’ বলেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের নিয়ে হাঙ্গেরির ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে এর সমালোনা করেন তিনি৷ হাঙ্গেরি ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ঢুকতে দিচ্ছে এমন প্রচারকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলেও অভিহিত করেন৷ বলেন, ‘‘এটা মিথ্যা…সত্য হলো আমরা কোন অবৈধ অভিবাসীকে হাঙ্গেরির ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি না৷ আমরা সব সময় হাঙ্গেরিকে এই মানুষগুলোর কাছ থেকে রক্ষা করে চলছি৷’’

অভিবাসী, শরণার্থীদের বিষয়ে হাঙ্গেরি সরকারের নীতির বরাবরই কড়া সমালোচনা করে আসছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ দেশটির ভূখণ্ডে প্রবেশে এসব মানুষকে তাদের আইনসঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে মত তাদের৷ তবে এই সমালোচনার জবাবে সিয়ার্টো বলেন, ‘‘অবৈধ অভিবাসীদের আক্রমণাত্মক আচরণ… তারা যেভাবে আমাদের অবকাঠামো ধ্বংস করছে এবং পুলিশের উপর হামলা চালাচ্ছে সে বিষয়ে হাঙ্গেরির যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু ইউক্রেনের শরণার্থীরা খুবই নিয়মতান্ত্রিকভাবে সীমান্ত পারাপার স্থানে আসছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি কখনও দিনব্যাপী ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছেন৷ তারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন৷ …এই দুই পক্ষের মধ্যে (ইউক্রেনীয় ও অনিয়মিত অভিবাসী) তুলনা ইউক্রেন থেকে পালিয়া আসা নিরপরাধ মানুষের প্রতি অপমানজনক৷’’

এফএস/এআই 

পড়ুন: বাংলাদেশি অভিবাসীরা যেভাবে ইউক্রেনে

 

অন্যান্য প্রতিবেদন