ফ্রন্টেক্স কর্মকর্তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের পুশব্যাকের ঘটনা একের পর এক ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন৷ ভপ্: picture-alliance/dpa/K. Nietfeld
ফ্রন্টেক্স কর্মকর্তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের পুশব্যাকের ঘটনা একের পর এক ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন৷ ভপ্: picture-alliance/dpa/K. Nietfeld

ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের তিন কর্মকর্তা অভিবাসী বা শরণার্থীদের অবৈধভাবে পুশব্যাক করার ঘটনা লুকিয়েছেন৷ ইউরোপীয়ান অ্যান্টি ফ্রড বা জালিয়াতি দমন কার্যালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে৷

এজিয়ান সমুদ্রে গ্রিসের অবৈধ পুশব্যাকের ঘটনা জানা সত্ত্বেও তা লুকিয়েছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা৷ ইউরোপীয়ান অ্যান্টি ফ্রড দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদ মাধ্যম স্পিগেল৷

তদন্তে উঠে এসেছে, ফ্রন্টেক্সের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের তিনজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা পুশব্যাকের ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেননি৷ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দিয়েছে দপ্তরটি৷ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বেশিরভাগ প্রতিনিধি মূলত শেঙ্গেন দেশগুলোর৷ ৭ মার্চ তাদের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে৷ 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রন্টেক্স কর্মকর্তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের পুশব্যাকের ঘটনা একের পর এক ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন৷ কিছু ক্ষেত্রে ফ্রন্টেক্স সদস্যরা গ্রিক সীমান্ত থেকে অভিবাসী বা শরণার্থীদের ধরে দেশটির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন৷ পরবর্তীতে তারা অবৈধভাবে তাদের ফেরত পাঠিয়েছে৷ স্পিগেল ও লাইটহাউস রিপোর্টস নামের আরেকটি সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানে এমন ঘটনা উঠে এসেছে৷ 

অথচ, আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী কোনো দেশ আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ না দিয়ে অন্য দেশে ফেরত পাঠাতে পারে না৷ এ ধরনের পুশব্যাকের ঘটনা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত৷  

ইউরোপীয়ান অ্যান্টি ফ্রড দপ্তর অভিযুক্ত তিনি কর্মকর্তার নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি৷ তবে ফ্রন্টেক্সের প্রধান ফাব্রিস লাজেরিও এই তালিকায় থাকতে পারেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের৷ 

এক বছর ধরে চলা তদন্তের ২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে ২০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে স্পিগেল৷ নির্যাতন, অসদাচরণ ও পুশব্যাকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটির বিরুদ্ধে ২০২১ সালে এই তদন্ত শুরু হয়৷ তার অংশ হিসাবে গত বছরের জানুয়ারিতে ফ্রন্টেক্স প্রধানের ওয়ারশো কার্যালয়েও অনুসন্ধান চালান তদন্তকারীরা৷ 

বিভিন্ন সময় ইইউ পার্লামেন্টের জমা পড়া প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে পুশব্যাকের ঘটনায় ফ্রন্টেক্স কর্মকর্তারা কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত ছিলেন৷ এইসব ক্ষেত্রে আপত্তি না করা, ঘটনা জানা সত্ত্বেও তা ধামাচাপ দেয়া কিংবা পুশব্যাকে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ফাব্রিস লাজেরিওর বিরুদ্ধেও৷ যদিও তার দপ্তর সেগুলো অস্বীকার করে আসছে৷ 

এফএস/এআই

পড়ুন: ইইউ সীমান্তে ‘পুশব্যাক’: কড়া সমালোচনায় ইউএনএইচসিআর

 

অন্যান্য প্রতিবেদন