লিবিয়া থেকে মানবিক সহায়তার আওতায় ইটালিতে আসা অভিবাসীদের একাংশ৷ ছবি- আনসা৷
লিবিয়া থেকে মানবিক সহায়তার আওতায় ইটালিতে আসা অভিবাসীদের একাংশ৷ ছবি- আনসা৷

লিবিয়া থেকে ৯৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইটালিতে নেয়া হয়েছে৷ গত সপ্তাহে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ইটালির রাজধানী রোমে পৌঁছায়৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তত্ত্ববধানে নিয়ে আসা এ অভাবাসনপ্রত্যাশীরা মূলত ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিক৷  

মানবিক সহায়তার আওতায় লিবিয়া থেকে বিশেষভাবে ইটালিতে নিয়ে আসার ঘটনা চলতি বছর এটিই প্রথম৷  

ইউএনএইচসিআর জানায়, এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়াতে বঞ্চনার শিকার হচ্ছিলেন৷ জরুরি ভিত্তিতে তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে দাবি সংস্থাটির৷  

ইউএনএইচসিআরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অভিবাসী দপ্তরের প্রধান ফ্রানচেসকা ফেরান্দিনো বলেন, ‘‘অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরকে ইটালিতে নিয়ে আসার বিষয়টিতে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বঞ্চনার শিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় একটি পথ খুঁজে বের করছে৷’’

ইটালির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল লুইজি মারিয়া ভিনইয়ালি বলেন, ‘‘এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইটালিতে স্বাগত জানানোর মাঝেও এক ধরনের তৃপ্তি আছে৷’’ লিবিয়াতে যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তাদেরকে সুরক্ষা দিতে আরো কাজ করার কথাও বলেছেন তিনি৷   

ইউএনএইচসিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে থেকে এমন ১১শ’ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে লিবিয়া থেকে ইটালিতে নিয়ে আসা হয়েছে৷ এ প্রক্রিয়া গত দুই বছর ধরে বন্ধ আছে৷  

তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিচালনায় মানবিক করিডোর, অর্থাৎ বিশেষ ব্যবস্থায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের লিবিয়া থেকে ইটালিতে আনার বিষয়ে ইটালি সরকারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো৷ কিন্তু লিবিয়া সরকারের কোস্টগার্ডকে সহযোগিতা করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছে ইটালি৷

গত মাসে ইটালি সরকারের সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে লিবিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে ইটালি৷ লিবিয়ায় ফেরত যাওয়ার পর তাদের ‘নারকীয় পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়৷ 

উল্লেখ্য, লিবিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘আটকে রাখা’ ও তাদের উপর নানা ধরনের ‘নির্যাতন’ চালানোর অভিযোগ রয়েছে৷ 

আরআর/এসিবি (আনসা)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন