মেদিকা সীমান্তে প্রবেশ করা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স
মেদিকা সীমান্তে প্রবেশ করা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার বোমা হামলা থেকে পালাতে ইউক্রেন থেকে দশ লাখেরও বেশি শরণার্থী এসেছে পোল্যান্ডে। পুরুষ অভিবাসীদের পাশাপাশি দেশটিতে আসা নারী ও শিশু শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানকে একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পোল্যান্ডে আগত ইউক্রেনীয় অভিবাসীরা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমশক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছিল। বিশেষ করে পোল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান নির্মাণ ও কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে ইউক্রেনীয় অভিবাসীরা।

কিন্তু পোল্যান্ডে কর্মরত অনেক ইউক্রেনীয় পুরুষ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধে যোগ দিতে অথবা পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় দিতে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। অপরদিকে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে আসা শরণার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যার ফলে আগের ইউক্রেনীয় অভিবাসী কর্মীদের সাথে বর্তমানে আসা শরণার্থীদের চিত্রে বেশ পরিবর্তন ঘটেছে। 

পোলিশ মাইগ্রেশন ফোরামের অ্যাগনিয়েসকা কোসোভিচকে রেডিও ফ্রান্সকে বলেন, “আমরা জানি যে বর্তমানে খালি থাকা চাকুরির স্থানগুলির শতভাগ কোটা মহিলারা পূরণ করতে পারবেন না। হয়ত কিছু ক্ষেত্রে পারবেন। যেসব চাকুরিতে পুরুষ বা মহিলা উভয় ধরনের কর্মী নিয়োগ দেয়া সম্ভব সেসব ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তবে এক্ষেত্রে যে সমস্যাটি দেখা দেবে তা হলো শিশু যত্ন নেয়া বা দেখাশোনা করা। কারণ এই সেক্টরে পোল্যান্ড এখনও দক্ষ দেশ হয়ে উঠতে পারেনি। অতএব, অনেক সন্তানসহ নারী শরণার্থীদের আগমনের ফলে তাদের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ইউক্রেনীয় নারী শরণার্থীরা কাজের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করতে পারবেন এমন সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের নিশ্চয়তা দেয়া বেশ কঠিন। কারণ বাচ্চাদের দেখশোনার জন্য বাসায় কেউ না থাকাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।”

অপব্যবহারের ঝুঁকি

এনজিওগুলোর মতে, নতুন আসা নারী শরণার্থীরা সীমান্তে কখনও কখনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরে যান।

অনেক ইউক্রেনীয়দের পোল্যান্ডে আত্নীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব থাকায় হয়ত তারা গিয়ে সীমান্ত থেকে তাদেরকে ভালোভাবে নিয়ে আসতে পারছেন। 

প্রত্যেক সংকটের মতো এখানেও একই ঝুঁকি রয়েছে।। যেমন, কাউকে চেনা ছাড়া কিংবা পোল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আসা ইউক্রেনীয় শরণার্থীর সংখ্যাও প্রচুর। 

ইউরোপে মানব পাচার এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে কাজ করা অন্যতম প্রধান এনজিও লা স্ট্রাডা জানায়, সংস্থাটির কাছে এমন অভিযোগ এসেছে যে ইউক্রেনীয় নারীদেরকে যৌনতার বিনিময়ে বাসস্থানের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। আবার অনেক নারী শরণার্থীদেরকে বিনামূল্যে গাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেও পরে তাদের কাছে অর্থ চেয়েছে।

লা স্ট্রাডা ইন্টারন্যাশনাল পোলিশ নিয়োগকর্তাদের দ্বারা সম্ভাব্য অপব্যবহারের বিষয়েও বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ অতীতে এনজিওটিকে পোল্যান্ডে বসবাসকারী ইউক্রেনীয় কর্মীদের সাথে শ্রম আইনের লঙ্ঘন মোকাবেলায় কাজ করতে হয়েছে।

পোল্যান্ডে আসা লাখো ইউক্রেনীয় নারীর আগমন এবং জীবন যাত্রা নিয়ন্ত্রণে একটি আইনি কাঠামো থাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পোলিশ সরকার সোমবার, ৭ মার্চ একটি বিলের খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। যা এখন সংসদে পাশের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইন অনুসারে, ইউক্রেনীয় পুরুষ এবং মহিলারা পোলিশ ভূখণ্ডে আঠারো মাস থাকতে পারবেন এবং অবাধে কাজ করার অনুমতি পাবেন। বসবাসের অনুমতি পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও আঠারো মাস বাড়ানো হতে পারে। স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি শরনার্থীরা পোলিশ স্কুলগুলিতে বাচ্চাদের ভর্তি করতে পারবেন। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে শরণার্থীদের স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া।


পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ থেকে রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএফআই) এর বিশেষ সংবাদদাতার প্রতিবেদন। 

এমএইউ/এআই

 

অন্যান্য প্রতিবেদন