(ফাইল ছবি) একটি নোকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনারত স্প্যানিশ উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ছবি) একটি নোকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনারত স্প্যানিশ উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

সাগরপথে স্প্যানিশ দ্বীপ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে দিয়ে মরক্কোর উপকূলে ৬১ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি নৌকা আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গেছে। এনজিও ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাস জানিয়েছে, নৌকাডুবিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন।

স্প্যানিশ এনজিও ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাস শনিবার ১২ মার্চ জানিয়েছে, দক্ষিণ মরক্কোর টারফায়া উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৪ জন অভিবাসী মারা গেছেন। 

তবে, এই ঘটনা এখনও নিশ্চিত করেনি মরক্কো কর্তৃপক্ষ। 

ডুবে যাওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুই শিশুর মৃতদেহ পশ্চিম সাহারার প্রধান শহর লায়নের মর্গে রাখা রয়েছে। শনিবার একটি টুইট বার্তায় এনজিওটি আরও জানায়, “নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।” 



ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাসের মতে, মরোক্কোর টারফায়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারির দিকে যাওয়া অস্থায়ী নৌকাটিতে মোট ৬১ জন লোক ছিলেন। 

সমুদ্র পথে ক্যানারির দিকে যাওয়া এই আটলান্টিক রুটটি তীব্র স্রোতের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূমধ্যসাগরে মানবপাচার ও সমুদ্র পারাপার নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ার কারণে ইউরোপে পৌঁছাতে ইচ্ছুক অভিবাসীরা এই পথটি বেশি ব্যবহার করছে।

মরক্কোর টারফায়া স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ছবি: গুগল ম্যাপ
মরক্কোর টারফায়া স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ছবি: গুগল ম্যাপ


এই স্প্যানিশ অভিবাসন সংস্থার মতে, এর আগে ১৬ জানুয়ারি ৪৩ জন অভিবাসী টারফায়া উপকূলের নিকটে মারা যান। যাদের মধ্যে তিনটি শিশু এবং ১৪ জন নারীও ছিলেন। ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার নাগরিক ছিলেন। তবে এই ঘটনায় মাত্র দুটি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। 

স্প্যানিশ সিভিল গার্ডের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ফুয়ের্তেভেনতুরা দ্বীপের কাছে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চলতি জানুয়ারির শুরুতে ক্যামিনান্দো ফ্রন্টেরাস ভুক্তভোগী অভিবাসী এবং তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে এই রুটে পুরো ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল।

সংস্থাটির মতে, ২০২১ সালে সমুদ্র পথে স্পেন পৌঁছতে গিয়ে রেকর্ড ৪,৪০৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্প্যানিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছর চল্লিশ হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরক্কো থেকে, সমুদ্রপথে স্পেনে প্রবেশ করেছে। 


এমএইউ/আরআর








 

অন্যান্য প্রতিবেদন