২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর লাম্পেদুসার একটি নৌকাডুবিতে ৩৬৬ জন প্রাণ হারান৷ সমুদ্রে পুষ্পস্তবক ভাসিয়ে ২০১৯ সালের ওইদিনে তাদের স্মরণ করা হয়৷ ছবি: আনসা
২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর লাম্পেদুসার একটি নৌকাডুবিতে ৩৬৬ জন প্রাণ হারান৷ সমুদ্রে পুষ্পস্তবক ভাসিয়ে ২০১৯ সালের ওইদিনে তাদের স্মরণ করা হয়৷ ছবি: আনসা

লিবিয়ার পূর্ব উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন৷ জলে ডুবে এদের প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী৷ ২৩ জন অভিবাসী ওই নৌকায় ছিলেন বলে জানিয়েছে তারা৷ এদের মধ্যে মিশরীয় এবং সিরীয়রা ছিলেন, এমনটা উল্লেখ করেছে সংবাদ সংস্থা এপি৷

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের সন্ধান পেতে চান অনেকেই৷ ইউরোপে আসতে চান কাজের সন্ধানে৷ অনিয়মিত পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে৷

অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আইওএম জানিয়েছে, সোমবার ভোর ৬টা নাগাদ তাদের কাছে সাহায্য চেয়ে একটি আবেদন (ডিসট্রেস কল) এসেছিল ওই অভিবাসী দলের তরফে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷

সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে অন্য কারও খোঁজ মেলেনি৷ আফ্রিকার উত্তরে অবস্থিত এই দেশ থেকে একাধিক বার অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করেছেন৷ আফ্রিকা এবং মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির কাছে ইউরোপে আসার প্রবেশদ্বার হল লিবিয়া৷ সাগর পেরিয়ে আসতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাও ঘটেছে৷

আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ২৩৪ জন অভিবাসীর৷ এদের মধ্যে বেশিরভাগই লিবিয়া অথবা টিউনিশিয়া থেকে ইউরোপে আসার চেষ্টা করেছিলেন৷ মারাত্মক ঠান্ডা এবং খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরে সমুদ্র পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে চলেছেন অভিবাসীরা৷ চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ হাজার ৫৭০ জন অভিবাসী সমুদ্র পথে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন৷

অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে ভূমধ্যসাগরে নজরদারি বাড়ানো হলেও অভিবাসীদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে৷


উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপের পথে

সংবাদ সংস্থা এপি জানাচ্ছে, আফ্রিকার আরও ছয়টি দেশের সীমান্ত লিবিয়ার সঙ্গে যুক্ত৷ ফলে মানবপাচারকারীরা এখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ অন্যদিকে, সমুদ্রে চলার উপযোগী নয় এমন নৌকা করেই অভিবাসীরা ইউরোপে আসার ঝুঁকি নিচ্ছেন৷ অভিবাসীদের বেশিরভাগই যেতে চান ইটালিতে৷ জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র সমুদ্রপথে ২০২১ সালে ৬৭ হাজার জন ইটালি এসেছেন৷ ইটালিতে সবথেকে বেশি এসেছেন বাংলাদেশ, লিবিয়া ও টিউনিশিয়ার অভিবাসীরা৷

আইওএম জানাচ্ছে, অনেক অভিবাসীরই আশাপূরণ হয়নি৷ লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী ২০২১ সালে ৩২ হাজার ৪২৫ জন জন অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে অথবা প্রবেশে বাধা দিয়েছে৷ তাদের স্থান হয়েছে সরকারি আটক কেন্দ্রে৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলির মত, মধ্য ভূমধ্যসাগরের এই পথ সবথেকে ভয়াবহ৷ আইওএম বলছে, ২০২১ সালে দেড় হাজারের বেশি অভিবাসী এই পথে জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন, প্রকৃত সংখ্যাটা হয়তো আরো একটু বেশি৷

আরকেসি/এমএইউ

 

অন্যান্য প্রতিবেদন