ইতালির ফোরলিতে দুর্ঘটনা স্থানে আপৎকালীন টিম৷ছবি: ইপিএ/ইটালিয়ান পুলিশ
ইতালির ফোরলিতে দুর্ঘটনা স্থানে আপৎকালীন টিম৷ছবি: ইপিএ/ইটালিয়ান পুলিশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে দুই সন্তানসহ ইটালিতে আসছিলেন ইউক্রেনীয় এক নারী৷ ইটালি আসার পথে সেসেনার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি ৷ বাস উল্টে মৃত্যু হয়েছে দুই সন্তানের মা, ৩২ বছর বয়সি ওই নারীর৷

একদল ইউক্রেনীয়র সঙ্গে ইউক্রেনীয় ওই নারী নিজের দেশ ছেড়ে ইটালিতে আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন৷ বাসে তার সঙ্গে ছিল দুই সন্তান৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হল না৷ পূর্ব-মধ্য ইটালির পেসকারায় যাচ্ছিলেন ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা৷

রবিবার সকালে সেসেনার এ-১২৪ মোটরওয়ের কাছে বাসটি উল্টে যায়৷ দুর্ঘটনায় বাসের ২১ জন যাত্রী বেঁচে গিয়েছেন, এদের মধ্যে রয়েছে ওই নারীর দুই খুদে সন্তানও৷ পাঁচ জন ব্যক্তি জখম হওয়ায় সেসেনার নিকটবর্তী হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে, তবে তাদের চোট গুরুতর নয়৷

ভোর সাড়ে ছয়টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ বাসটিতে ইউক্রেনীয় লাইসেন্স প্লেট লাগানো ছিল৷ পশ্চিম ইউক্রেনের খমেলনৎস্কি শহর থেকে ৫৪ জন যাত্রীকে নিয়ে বাসটি রওনা দিয়েছিল৷ বেশিরভাগ যাত্রী আগে নেমে গিয়েছিলেন৷ সংকটময় পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের নানা জায়গায় আশ্রয় নিতে হাজারো ইউক্রেনীয় রোজ দেশ ছাড়ছেন৷কেউ বা আত্মীয়ের কাছে যাচ্ছেন৷ সন্তানদের বাঁচাতে কেউ ঝুঁকি নিয়েই পাড়ি দিচ্ছেন অন্যত্র৷ এই বাসটি ত্রিয়েস্তে সীমান্ত দিয়ে ইটালিতে প্রবেশ করে৷ একাধিক জায়গা পেরিয়ে পেসকারায় পৌঁছানোর কথা ছিল তাদের৷ কিন্তু তার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে রাস্তার ধারে ঢালু জমিতে পড়ে যায়৷ দুর্ঘটনার কারণ এখনও ঠিক স্পষ্ট নয়৷ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ 

বাসের মধ্যে আটকে নারী

দুর্ঘটনার পর ভাঙাচোরা বাসের মধ্যে ওই নারী আটকে পড়েন৷ মারাত্মক ঠান্ডার মধ্যে বেশিরভাগ যাত্রীই বাস থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন, কিন্তু তিনি পারেননি৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, বাকিদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার ও গরম পানীয়ের ব্যবস্থা করে৷ কারও ক্ষেত্রে সাহায্যকারী দল এসে পৌঁছানোর আগে আত্মীয়-বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিদের উদ্ধার

করেন৷ বাকিদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা হয় স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের তরফে৷ দুটি মোবাইল ক্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী৷ এ ছাড়াও চিকিৎসকদের টিম, মেকানিক, ইটালির জাতীয় সড়ক বিষয়ক সংস্থা ইটালিয়ান মোটরওয়েজের ম্যানেজমেন্ট অফিসের টিমও পৌঁছায় ঘটনাস্থলে৷ পরবর্তী বাসেরও ব্যবস্থা করা হয়৷

দুটি অনাথ শিশু

মা হারা শিশুদুটি এখন তাদের নানি,দাদি, দাদির বোনের সঙ্গে রয়েছে৷ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসে ছিলেন তারাও৷ মা হারা শিশুদুটির অভিভাবকের দায়িত্ব তাদেরকে দেয়া হয়েছে৷ বাসটির সঙ্গে অন্য কোনো বাসের সংঘর্ষ হয়নি৷ বাসের চালকও নেশাগ্রস্ত ছিলেন না, তদন্তে এ কথাও জানা গিয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে, টানা বাস চালিয়ে ভোরের দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন চালক৷ হয়তো বা ঘুম এসে গিয়েছিল তার৷ যদিও বাসটিতে অন্য একজন চালকও ছিলেন৷ সে ক্ষেত্রে কীভাবে এই দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

আরকেসি/এমএইউ (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন