মেডিনিনকাই ক্যাম্পে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আটক নারী অভিবাসীদের দেখা যাচ্ছে। ছবি: ডিআর
মেডিনিনকাই ক্যাম্পে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আটক নারী অভিবাসীদের দেখা যাচ্ছে। ছবি: ডিআর

সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ার মেডিনিনকাই ক্যাম্পের অভিবাসীদের ধারণ করা একটি ভিডিও ইনফোমাইগ্রেন্টসের হাতে এসেছে। ভিডিওতে কয়েকজন নারীর হাত বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়, যাদের শরীরে যথেষ্ট পোশাক ছিল না৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিবাসীদের পোশাক পরার সময় না দিয়েই আটক করে লিথুয়ানিয়ান নিরাপত্তা বাহিনী৷

ভিডিওতে একটি ছোট ঘরে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত প্রায় দশজন নারীকে দেখা যায়। যাদের কেউ অন্তর্বাস, কেউ টি-শার্ট পরে আছেন৷ এমনকি নগ্ন অবস্থায় একজন সাদা কম্বলের নীচে লুকানোর চেষ্টা করছিলেন৷ ভিডিওটি বেলারুশ সীমান্তে অবস্থিত লিথুয়ানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরের বলে জানা যায়৷ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন তার হাতকড়া খুলতে পেরে মোবাইলে এই দৃশ্য ধারণ করেন৷ 

ভিডিওতে অভিবাসীদের বলতে শোনা যায়, “তারা নারীদের নগ্ন করে নিয়ে গেছে।” ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এই ভিডিও ও ঘটনার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে ইনফোমাইগ্রেন্টস। 

মেডিনিনকাই শিবিরে আট মাস ধরে বন্দি থাকা ক্যামেরুনের আশ্রয়প্রার্থী ক্লেয়ারও (ছদ্মনাম) শিবিরটিতে ছিলেন৷ সেদিন সকালে, তিনি তার কক্ষ থেকে জানালা দিয়ে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখেন৷ 

সাদা কম্বলের নিচে ভয়ার্ত এক নারী অভিবাসী। ছবি: ডিআর
সাদা কম্বলের নিচে ভয়ার্ত এক নারী অভিবাসী। ছবি: ডিআর


ইনফোমাইগ্রেন্টসকে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘‘পোশাক পরার সময় না দিয়ে নগ্ন অবস্থায় নারী অভিবাসীদের তাদের কক্ষ থেকে আটক করা হয়৷’’ তিনি আরও জানান, “গ্রেপ্তারের আগে তাদের কেউ কেউ গোসল করে বের হচ্ছিলেন, আবার কেউ তাদের অন্তর্বাস পরা অবস্থায় ঘুমাচ্ছিলেন। লিথুয়ানিয়ান নিরাপত্তীরক্ষীরা ক্যাম্পের ঘরগুলোতে ঢুকে তাদের মারধর করে এবং হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়৷’’

ভিডিওতে কম্বল জড়িয়ে থাকতে দেখা যাওয়া নারীর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি তাকে আমার জানালা দিয়ে দেখেছি৷ তিনি নগ্ন ছিলেন৷ আমাকে ঐ নারী পরে জানান, তিনি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে এক পর্যায়ে তার ঘর থেকে পালিয়ে যান৷ পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে”, বলেন ক্লেয়ার। 

এ ঘটনায় লিথুনিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ইনফোমাইগ্রেন্টস। 

লিথুয়ানিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, “এই নারীরা কেন অর্ধনগ্ন হয়ে সেখানে ছিল তার কারণ আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে অজানা৷ লিথুয়ানিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী কখনোই নিবন্ধন কেন্দ্রে বসবাসকারী বিদেশিদের পোশাক খোলার নির্দেশ দেয়নি৷’’

দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো তদন্ত শুরু করেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি৷

‘পুলিশ আমাদের নিয়ে চিন্তা করে না’

শিবিরের অনেক নারীরাই জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ান পুলিশের এমন আচরণে তারা বিস্মিত নন৷ কারণ, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়শই এই ধরনের অভিযান চালিয়ে থাকে। 

ক্লেয়ার বলেন, “এখানকার পুলিশের কাছে আমাদের শালীনতার কোন মূল্য নেই৷ আপনি কি মনে করেন এটা প্রথমবার? তারা প্রায় সময় আমাদের ঘরের দরজা খুলে ঢুকে যায়৷ আমরা নগ্ন বা কী অবস্থায় আছি এটা তারা চিন্তাও করে না৷ এটা নতুন কিছু নয়৷ এখানে সবসময়ই এমন ঘটে৷’’

ক্লেয়ারের মতে, কক্ষটিতে কয়েকজন নারী প্রায় ৪০ মিনিট বন্দি ছিলেন৷ কেউ কেউ পরে তাদের নিজেদের কক্ষে ফিরে আসেন৷ অন্যদের সেখান থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভিডিওটি যিনি ধারণ করেন তিনি আর ক্যাম্পে ফিরে আসেননি বলে নিশ্চিত করেন ক্লেয়ার। 

ইনফোমাইগ্রেন্টসের কাছে আসা তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের ১ মার্চ ক্যাম্পে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তা উন্নত করার দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে সেখানে থাকা নারী অভিবাসীরা৷ মূলত এই বিক্ষোভের পরেই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছিল৷

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কুকুর নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করে৷ তারা বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীদের ছবিও তুলে নিয়ে যায় বলে জানা যায়৷ 


এমএইউ/এফএস



 

অন্যান্য প্রতিবেদন