সোমবার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট পৌরনারা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যান৷ ছবি: এপি
সোমবার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট পৌরনারা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যান৷ ছবি: এপি

সাইপ্রাসে একটি অভিবাসী শিবিরে অমানবিক পরিস্থিতিতে বসবাস করছে অপ্রাপ্তবয়স্করা৷ এ নিয়ে সমালোচনার মুখে শিবিরটি দেখে পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ৷

ইউরোপে আশ্রয় নেয়ার জন্য তুরস্ক হয়ে রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে পাড়ি জমান অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ আবার দ্বীপের তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত অংশ থেকেও অনেকে দেশটিতে প্রবেশ করেন৷ তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক, যাদের অনেককে রাজধানী নিকোসিয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত পৌরনারা শিবিরে রাখা হয়েছে৷ কয়েকদিন আগেও ৩৫০ জনের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্কের বসবাস ছিল সেখানে৷ তাদের বেশিরভাগ এসেছে আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও সোমালিয়া থেকে৷ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৌরনারা শিবিররটিতে মূলত এক হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে৷ কিন্তু এখন বিভিন্ন বয়সের আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আছে, যাদের একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ সাইপ্রাসের শিশু অধিকার কমিশনার ডেসপো মিখালিডোউ ফেব্রুয়ারিতে জানান, ‘‘সেখানে একেক কক্ষে ১৫ জন বসবাস করেন৷ তাদেরকে বিছানা ভাগাভাগি করতে হয় এবং শিশুরা মাটিতে ঘুমায়৷’’ শিশুদের জন্য শিবিরটিতে মাত্র দুইটি শৌচাগার ও একটি গোসলখানা আছে বলেও জানান তিনি৷ 

প্রেসিডেন্টের পরিদর্শন

সোমবার শিবিরটি পরিদর্শনে যান সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাসতাসিয়াডেস৷ তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘মর্মান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করে শিশুদের থাকার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন৷ তিনে বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ার কারণে শিবিরে যে ‘ঘাটতি’ দেখা দিয়েছে তা ‘যথাযথভাবে পূরণ করা হবে’৷ পরে টুইটেও লিখেছেন, ‘‘বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় আন্তরিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷’’

সেখানকার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে সম্প্রতি ৩০ জনের মতো অভিবাসনপ্রত্যাশী বিক্ষোভ করেন৷ এর আগে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩৬ জন জখম হয়েছেন বলেও জানা যায়৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি৷ তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে৷  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিস দাবি করেছেন শিবিরের অপ্রাপ্তবয়স্ক ৩৫৬ জনের ৯২ জনকে এরই মধ্যে হোটেলে সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ আরো ১৫০ জনের জন্য খুব দ্রুত জায়গার ব্যবস্থা করা হবে৷ রাজধানী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নতুন আশ্রয় কেন্দ্রের নির্মাণ শেষ হলে এই সংকট কেটে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ 

পড়ুন: আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠাচ্ছে সাইপ্রাস

মাথাপিছু পরিসংখ্যানে সাইপ্রাসে শীর্ষে 

সাইপ্রাসে শিবিরগুলোর দুর্দশার জন্য প্রেসিডেন্ট আনাসতাসিয়াডেস অভিবাসী বৃদ্ধির হারকে দায়ী করছেন৷ তিনি জানান, জনসংখ্যার মাথাপিছু হারের দিক থেকে সাইপ্রাসে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা চার দশমিক ছয়জন, যা গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ৷ ২০২০ সালে দেশটিতে প্রতি দশ লাখ জনগোষ্ঠীর বিপরীতে আশ্রয় আবেদনের হার ছিল ৮৪৪৮ জন৷  

জাতিসংঘের হিসাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে দুই হাজার ১০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী এসেছেন৷ ২০২১ সালে এসেছেন ১২ হাজার ৩০০ জন, যা আগের বছরের চেয়ে চারগুণ বেশি৷ অভিবাসী হতে ইচ্ছুকদের আগমনের জন্য তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ ও আঙ্কারা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির নিকোসিয়ার৷ তাদের দাবি, ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীরা তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলে আসে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে অনিয়মিত উপায়ে রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে প্রবেশ করেন৷ 

১৯৭৪ সালে জাতিগত সংঘাতে জেরে অভিযান চালিয়ে সাইপ্রাস দ্বীপের উত্তরাংশ দখল করে নেয় তুরস্ক৷ সেই অংশটি এখনো তুরস্কের ভূখণ্ড হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি৷ 

এফএস/এসিবি (এপি, এএফপি)   

 

অন্যান্য প্রতিবেদন