পোল্যান্ডে এসে পৌঁছানো এক নারী শরণার্থী। ছবি: রয়টার্স
পোল্যান্ডে এসে পৌঁছানো এক নারী শরণার্থী। ছবি: রয়টার্স

২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পোল্যান্ডে এসেছেন প্রায় ৩৫ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী৷ সীমান্তে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ছোট বড় প্রায় সব এনজিও ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা৷ তবে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পোল্যান্ডসহ ইইউ দেশগুলোতে ক্যাটারিং শিল্পে কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করছে ‘প্যারাবেরে ফোরাম’।

বাস্তুচ্যুত ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্যাটারিং শিল্পে কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করছে প্যারাবেরে ফোরাম নামক বিশেষ নেটওয়ার্ক৷ ৬০টি দেশে আট হাজার নারীর সমন্বয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্কটি উদ্বাস্তু ও বাস্তুচ্যুতদের নিয়ে কাজ করে৷  

প্যারাবেরে ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া ক্যানাবাল বলেন, ‘‘প্যারাবেরে ফোরাম শরণার্থীদের সাথে তাদের এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাদের সংযোগ করার জন্য গঠিত একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক৷ এই নেটওয়ার্কের সুবিধাভোগীদের ৯০ শতাংশ নারী৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘শরণার্থী নারীদের বড় একটি অংশ আগে থেকেই রান্নাসহ বাসার বিভিন্ন কাজ ও শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে থাকেন৷ যখন তারা কোনো প্রকার সঞ্চয় ও পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই নিজের দেশ ছেড়ে চলে যান, তখন কঠিন সংকটে পড়েন এসব নারীরা৷’’

‘‘সুতরাং শরণার্থী জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সন্তানদের লালন পালনে অর্থনৈতিক সক্ষমতা আনতে তাদেরকে খুব দ্রুত একটি চাকরি খুঁজে বের করতে হয়৷ এখানে যে বিষয়টি আমাকে খুব বেশি নাড়া দেয় তা হলো নারীদের সাথে শরণার্থীদের বিশাল একটি অংশ শিশুরা৷ ফ্রান্সের অনেক রেস্তোরাঁর মালিকদের সাথে আমাদের ইতোমধ্যেই যোগাযোগ হয়েছে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই ইউক্রেনীয় নারী শরণার্থীদের কাজের পাশাপাশি থাকার জায়গা দিতেও ইচ্ছুক৷ এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ শিশুদের মায়েরা ক্যাটারিং শিল্পে কাজ করতে পারলে শিশুরাও সেখানে স্বাভাবিক জীবনের একটি চিহ্ন খুঁজে পাবে”, ব্যাখ্যা করেন মারিয়া ক্যানাবাল৷ 

মারিয়া ক্যানাবাল আরও জানান, “আমি এখন পোল্যান্ডে থাকা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করছি৷ আপাতত যারা বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের প্রাথমিক তথ্য যেমন, নাম, বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি উল্লেখ করে তালিকাগুলো ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা ক্যাটারিং শিল্পের মালিকদের পাঠাচ্ছি৷ আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক থেকে পাঠানো তালিকাগুলোর উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখি৷’’ 

কোনো মালিক যদি জানায় তাদের লোক প্রয়োজন সেক্ষেত্রে উক্ত নারী শরণার্থীদের সহায়তায় সার্বিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয় প্যারাবেরে ফোরাম৷ এটা সত্য যে, নারী শরণার্থীদের সহায়তার প্রক্রিয়া পুরুষদের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন৷ কারণ অনেক ইউক্রেনীয় নারীরাই বলেন, “আমরা পরবর্তীতে আমাদের দেশে ফিরে যেতে চাই৷ আমরা বিপদে পড়ে এখানে এসেছি৷’’

আমাদের নেটওয়ার্কের সংগ্রহে থাকা তথ্যগুলো পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব ইউক্রেনীয় পরিবারকে তাদের দেশে ফেরত যেতেও সহায়তা করবে৷  



এমএইউ/এফএস                   (রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন