বেলজিয়াম থেকে যাত্রা করা ৩৯ অভিবাসীর লাশ পূর্ব লন্ডনের একটি শিল্প এলাকায় একটি ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স
বেলজিয়াম থেকে যাত্রা করা ৩৯ অভিবাসীর লাশ পূর্ব লন্ডনের একটি শিল্প এলাকায় একটি ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স

২০১৯ সালে বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্যে পাচারকালে একটি ট্রাকে ৩৯ ভিয়েতনামী অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনার রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে৷ রায়ে একজন ২৮ বছর বয়সি রোমানিয়ান নাগরিককে তিন বছর দশ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছন বিচারক৷ এর আগে বেলজিয়ামেও একই ঘটনায় আরেকজন ভিয়েতনামি পাচারকারীকে দণ্ড দেয়া হয়েছিল।

সোমবার লন্ডনের ওল্ড বেইলির আদালত ২৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বছর দশ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে৷ সাজাপ্রাপ্ত রোমানিয়ান নাগরিক আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছিলেন৷

বেলজিয়াম থেকে লরিতে করে আসা ভিয়েতনামী অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছার পরে তার ভ্যানে তোলার কথা ছিল৷ কিন্তু ট্রাকে ৩৯ অভিবাসীর নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পালিয়ে যান তিনি৷ পরবর্তীতে পূর্ব লন্ডনের একটি শিল্প এলাকা ২৩ অক্টোবর পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে৷ এর কয়েক ঘণ্টা পরই ডোভার বন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন তিনি৷ 

২০২১ সালের জুনে তাকে ইটালির মিলানের কাছে একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ পরে সেখান থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়৷ 

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একই ঘটনার দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় রায় দেয় বেলজিয়ামের ব্রুজ শহরের আদালত৷ ব্রাসেলসে থাকা পাচারকারীদের নেটওয়ার্কের নেতা হিসেবে ৪৫ বছর বয়সি ভিয়েতনামি নাগরিক ভো ভ্যান হংকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও দশ লাখ ইউরো সমমানের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত৷

২০২১ সালের ডিসেম্বরে ব্রুজ ফৌজদারি আদালতে ভো ভ্যান হং সহ অন্য অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল৷ ভো ভ্যান হংকে বেলজিয়ামে একটি ‘অপরাধী সংগঠন’ এর নেতৃত্ব দেয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়৷

তদন্তে উঠে আসে, তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে মোট ১১৫ জন অভিবাসীকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পাচার করেছেন৷ বিচার চলাকালে, তদন্তকারীরা জনিয়েছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত অপরাধ চক্রের বেলজিয়ান সেলের নেতা৷ অপরাধী চক্রের নেতা হিসেবে তার ভূমিকা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে৷

অভিযুক্ত ভো ভ্যান হং আদালতে দাবি করেন, তিনি পাচারকারি চক্রের শিকার একজন ভুক্তভোগী মাত্র৷

২০১৯ সালের এই মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল৷ নিহতদের অনেকেই মধ্য ভিয়েতনামের একটি দরিদ্র অঞ্চল থেকে এসেছিলেন৷ যুক্তরাজ্যে পাঠাতে তাদের পরিবারের সদস্যরা কয়েক হাজার ডলার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ করে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন৷

এই ঘটনার বেশ কয়েক সপ্তাহ পরে অ্যালায়েন্স অ্যান্টি ট্রাফিকিং নামের এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা জর্জেস ব্লানচার্ড রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালকে বলেছিলেন, ‘‘যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীরা তাদের যা কিছু আছে এমনকি, বাড়ি, জমি, ছোট খামার বিক্রি করতে দ্বিধা করত না৷’’

তিনি আরও বলেন, “বিদেশে যাওয়ার আগে তারা ঋণও করত, যা তারা পৌঁছার পর শোধ করবে বলে কথা দিত৷ ২০১৩ সালের হিসেব অনুযায়ী অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যেতে একজন ভিয়েতনামি নাগরিক গড়ে ৩০ হাজার ইউরো বা ৩০ লাখ টাকা সমমানের অর্থ খরচ করত৷’’

ট্রাকে নিহত অভিবাসীরাও উন্নত জীবনের আশায় এই পরিমাণ অর্থ পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩১ জন পুরুষ এবং আটজন নারীর সবাই হাইপারথার্মিয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান৷


এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন