পাকিস্তানের পেশোয়ারে আফগান শরণার্থীরা৷ ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ছবিটি তুলেছেন ইপিএর প্রতিনিধি আরশাদ আরবাব
পাকিস্তানের পেশোয়ারে আফগান শরণার্থীরা৷ ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ছবিটি তুলেছেন ইপিএর প্রতিনিধি আরশাদ আরবাব

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশ ছেড়েছেন লাখো নাগরিক৷ কোন দেশে গিয়েছেন তারা? কতজন সুরক্ষা পেয়েছেন? জার্মানিতেই বা এসেছেন কতজন?

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের ১০০টি দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন আফগানরা৷ শরণার্থী হিসেবে অনেকে পাকিস্তান এবং ইরানে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন৷ আশ্রয় নিয়েছেন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবেও (আইডিপি)৷ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির এমন নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ৷

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ৷ সিরীয় এবং ভেনেজুয়েলার শরণার্থীদের পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে আফগানরা৷ ২০২১ সালের আগস্ট মাসের হিসেব বলছে, ১৪ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ইরানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী৷ উজবেকিস্তান এবং তাজিকিস্তানে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ও ছয় হাজারের কিছু বেশি৷

প্রতি পাঁচ জন আফগান শরণার্থীর মধ্যে চার জনই শিশু বা নারী৷ শুধু গত বছরেই আফগানিস্তান ছেড়েছেন ছয় লাখ ৮৩ হাজার৷ এ ছাড়াও বিশ্বজুড়ে আফগান আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দুই লাখ ৩৯ হাজার৷

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত জার্মানিতে মোট এক লাখ ৮৩ হাজার আফগান শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন৷ তুরস্কে নথিভুক্ত আফগান শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার৷ 

তালেবানরা আসার পর কী হলো?

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর অ্যামেরিকা প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার আফগান নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়৷ ২০২১ সালের শুরুতে ৪০ হাজার আফগান প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরানে পালিয়ে যান৷ ফেব্রুয়ারি মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক মূলত দুইটি পথে দেশ ছেড়েছেন৷

 নরওয়ে রিফিউজি কাউন্সিলের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির রিপোর্ট বলছে, আফগানিস্তান থেকে প্রতিদিন ইরানে পাঁচ হাজার মানুষ প্রবেশ করছেন৷ জাতিসংঘ বলছে, ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইরানের প্রশাসন ‘পদ্ধতিগতভাবে’ আফগান শরণার্থীদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ 

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার আফগান নাগরিক পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আফগান আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ তবে ২০১৫-২০১৬ সালের তুলনায় সেই সংখ্যাটা কম৷

 

আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে কোন কোন দেশ?

ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট বলছে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ৪০টি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন আফগানরা৷ তাদের মধ্যে ২৫টি দেশ ইউরোপের৷ তবে নিউজিল্যান্ডেও আশ্রয় নিয়েছেন কেউ কেউ৷ অনেক আফগান আশ্রয়প্রার্থী বিভিন্ন দেশের সীমান্তে অপেক্ষা করছেন৷ পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪০ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷

 

জার্মানিতে কতজন আফগান?

২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ১১০০ আফগান শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় চেয়েছেন, ডিসেম্বরে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০০-তে৷

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, জার্মানিতে আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার আফগান নাগরিক৷ এদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ আবেদনকারী পুরুষ৷ প্রতি দশ জন পুরুষের মধ্যে চার জনের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর৷

অন্য দেশের শরণার্থীদের তুলনায় জার্মানিতে আফগান শরণার্থীরা মূলত পুরুষ এবং তুলনামূলকভাবে তাদের বয়স কম৷ জার্মানির অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয় (বিএএমএফ)- জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০০টি আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদনের ৯৯টি গ্রহণ করা হয়েছে৷ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জার্মানিতে দেড় লাখ আফগানকে কোনো না কোনোভাবে আশ্রয় দেয়া হয়েছে৷ ২০২১ সালের অগাস্টের পর কোনো আফগান নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠায়নি জার্মানি৷

আরকেসি/ এফএস (বেনইয়ামিন বাথকে)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন