যুদ্ধবিধ্বস্ত মারিউপল  থেকে অন্য দেশে র পথে ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা৷ ছবি :পিকচার অ্যালায়েন্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত মারিউপল থেকে অন্য দেশে র পথে ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা৷ ছবি :পিকচার অ্যালায়েন্স

রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পৌঁছেছেন ৩৮ লাখের বেশি মানুষ৷ সোমবারের বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির মন্ত্রীদের তরফে ১০ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসন প্রকল্পে সহায়তা করা যাবে৷ এজন্য একটি ‘সেন্ট্রাল প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন মন্ত্রীরা৷

সোমবার ব্রাসেলসে যৌথ শরণার্থী নীতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল ইইউ-র সদস্য দেশগুলি৷ সংহতি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে কে কতজনকে আশ্রয় দিতে পারবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে একমত হয়েছেন তারা৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, প্রায় ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ইউক্রেনীয় রুশ হামলার পর দেশ ছেড়েছেন৷ প্রায় ২২ লাখ শরণার্থী প্রথমে আশ্রয় নিয়েছেন পোল্যান্ডে৷ অনেকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্য দেশ রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন৷ এত কম সময়ে এত বেশি শরণার্থী আগমনের ফলে অভিবসান প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার মুখে, জানিয়েছে পোল্যান্ড৷

মন্ত্রীরা কী আলোচনা করলেন?

ব্রাসেলস এরইমধ্যে ইউক্রেনীয়দের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষার আইন পাশ করেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিশনার ইলভা ইওহানসন বলেন, ইইউ জুড়ে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য নথিভুক্তকরণের একক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে৷ এর ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটা সহজ হবে৷ তিনি জানান, প্রথমে প্রতিদিন প্রায় লাখ খানেক শরণার্থী এলেও এখন তা ৪০ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে৷

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে এমনই অসংখ্য শিশু বাস্তুহারা হয়েছে৷  ছবি: এনআরসি
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে এমনই অসংখ্য শিশু বাস্তুহারা হয়েছে৷ ছবি: এনআরসি


‘কোটা সিস্টেম’-এর বিপক্ষে জার্মানি

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার ইইউ-র বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য কোটার পরিবর্তে সংহতিভিত্তিক একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন৷ তাহলে সমবণ্টন বজায় থাকবে৷ বৈঠকের পর তিনি একটু বেশি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন৷ তবে ১০ দফা পরিকল্পনার বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন৷ যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, সেখান থেকে অন্য দেশে কিছু মানুষকে নিয়ে যাওয়া হবে, এমন কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে৷



বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, ফেজার এবং পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিউসজ কামিনস্কি একটি চিঠিতে সদস্য দেশগুলির জন্য শরণার্থী পিছু এক হাজার ইউরো করে অর্থ চেয়েছেন৷ 

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সোমবারে জানিয়েছেন, জার্মানিতে প্রায় তিন লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এসেছেন৷ ২০১৫ সালে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে লাখো লাখো শরণার্থীরা ইউরোপে এসেছিলেন৷

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ছবিটা আরও শঙ্কার৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ এত বড় শরণার্থী সংকটের সম্মুখীন হয়নি৷

আরকেসি/এফএস (ডয়চে ভেলে, রয়টার্স, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন