ফাইল ফটো: লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিবাসী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে | ছবি: এপি
ফাইল ফটো: লিবিয়ার উপকূলরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিবাসী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে | ছবি: এপি

লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে থাকা অভিবাসীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় নতুন এক ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি৷ দেশটির সীমান্তরক্ষীদের জার্মান সেনাবাহিনী আর প্রশিক্ষণ দেবে না বলে বুধবার জানিয়েছে বার্লিন৷

লিবিয়ার উপরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অপারেশন ইরিনি’ মিশনে আরো একবছর অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর একথা জানায় জার্মানি৷

‘‘লিবিয়ার উপকূলরক্ষী কয়েকটি ইউনিট বারবার শরণার্থী ও অভিবাসী এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অসদাচরণ করায় জার্মান সরকার লিবীয় উপকূলরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দিতে জার্মান সেনাদের যুক্ত করা যৌক্তিক মনে করছে না,’’ বলেন জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া সাসে৷ 

লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা ইউরোপমুখী অভিবাসীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত অভিযোগ উঠছে৷ 

সাসে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে অন্তত দুইটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ আছে, যেখানে উপকূলরক্ষীরা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অবৈধ আচরণ করেছেন৷ ২০২১ সালের জুলাইয়ে ঘটনা দুইটি ঘটেছে৷’’

অপারেশন ইরিনির এক গোপন প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুর দিকে বার্তা সংস্থা এপির হাতে আসে৷ লিবীয় কর্তৃপক্ষ যে শরণার্থী ও অভিবাসীদের উপর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে তা সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল৷ তা সত্ত্বেও অবশ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল৷  

সাতবছর আগে লিবিয়া হয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসীর ঢল নামলে লিবীয় উপকূলরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তা সামলানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)৷ কিন্তু সেই উদ্যোগ নানা অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়৷

অপারেশন ইরিনিও সমুদ্রে ডুবতে বসা অভিবাসীদের উদ্ধারে খুব বেশি সহায়তা করে না বলে অভিযোগ রয়েছে৷ তবে এই অভিযোগের জবাবে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া সাসে বিশেষ কিছু বলেননি৷

জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান হিবেস্টাইট অবশ্য জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে লিবিয়ায় অস্ত্র রপ্তানি ও দেশটি থেকে অবৈধ তেল রপ্তানির উপর নজরদারির পাশাপাশি মানবপাচার চক্র দমনেও সচেষ্ট থাকবে অপারেশন ইরিনি৷ 

এআই/এফএ (এপি, রয়টার্স)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন