ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সমর্থনে প্যারিসে  অ্যামনেস্টির সমাবেশ। তবে সব অভিবাসীদের জন্য একই নীতি মেনে চলার দাবি জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ছবি: টুইটার  অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সমর্থনে প্যারিসে অ্যামনেস্টির সমাবেশ। তবে সব অভিবাসীদের জন্য একই নীতি মেনে চলার দাবি জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ছবি: টুইটার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

জনগণের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় অনুকরণীয় দেশ হয়ে উঠতে ফ্রান্স এখনো তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২১ সালের প্রতিবেদনে সংস্থাটি ফ্রান্সকে ইউক্রেনীয় ও অ-ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের জন্য বৈষম্যমূলক অভ্যর্থনানীতির জন্য সমালোচনা করেছে।

ফ্রান্সে আশ্রয় আইনের অভ্যর্থনা নীতিতে ইউক্রেনীয় ও অন্য জাতীয়তার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ভিন্ন নীতি মেনে চলার দায়ে সমালোচনা করেছে আন্তজার্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সের আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক নাথালি গোদার গনমাধ্যমকে বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে আমরা ফ্রান্সের অভিবাসন নীতিতে তীব্র বৈপরীত্য দেখছি। যেভাবে গত বছরের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পরে ফরাসি কর্তৃপক্ষ আফগানদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছিল। সে সময় বহুল আফগান নাগরিক তাদের দেশ ছাড়লেও একই সুবিধা পাননি।”

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টেক্সের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য দেশটি কমপক্ষে এক লাখ লোককে আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যর্থনা এবং আবাসন প্রকল্প স্থাপন করেছে।

আফগানিস্তান ও ইউক্রেন নিয়ে ভিন্ন আচরণের অভিযোগ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি, গত বছরের ১৬ আগস্ট আফগানিস্তন পরিস্থিতিতে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁর দেয়া ভাষণের কথা উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে। 

কারণ সে সময় ফরাসি রাষ্ট্রপতি অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পূর্বাভাস এবং সীমান্ত রক্ষা করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইউক্রেন পরিস্থিতিতে সেই বক্তব্য আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

নাথালি গোডার্ড আরও উল্লেখ করেন, “ইউক্রেন থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় মন্ত্রীদের দেওয়া অস্থায়ী সুরক্ষার প্রস্তাব গত বছর আফগান শরণার্থীদের জন্যও প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি আর সফলতার মুখ দেখে নি।”

তার মতে, “এটি একটি বিরল ও দ্বিমুখী উদারণের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা তিন বছর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে, সেখানে কাজ করতে, বিনামূল্যে শিক্ষায় ব্যবস্থায় প্রবেশ এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অনুমতি দেবে।

এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উত্তর ফ্রান্সের কালে অঞ্চলে অবস্থানরত অভিবাসীদের সাথে ফরাসি কর্তৃপক্ষের অপমানজনক আচরণকে কলঙ্কজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। সেখানে পুলিশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এনজিও ও অভিবাসন সংস্থাগুলোকে মানবিক সাহায্য কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য করঞ্ছে। পাশাপাশি এনজিওগুলোর উপর নানান হয়রানিমূলক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও জানায়, “২০২১ সালে ৬৭টি দেশ মত প্রাকশের স্বাধীনতা এবং এনজিও ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা দিয়ে আইন পাশ করেছে। দুঃখজনকভাবে ফ্রান্স বিশ্বের এই ৬৭টি দেশের মধ্যে ‘একটি’।”

এছাড়া, এনজিওটি ফ্রান্সে ২০২১ সালের জুলাইয়ের শেষে পাশ হওয়া সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ আইনের কথা উল্লেখ করেছে। যার সাহায্যে ফরাসি কর্তৃপক্ষ স্বতন্ত্র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছিল। 

অপরদিকে, ফ্রান্সে ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে গৃহীত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনেরর ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন এই আইনের ফলে ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন সভা ও সমাবেশের ছবি ধারণ করার কথা বলা হইয়েছে। 

অ্যামনেস্টির মতে, “এটি রাষ্ট্রকে গণ/নজরদারির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।”


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন