গ্রিস ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার৷
গ্রিস ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার৷

গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, মানবপাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ ৬৮ জন অভিবাসীর জীবন বিপন্ন করার অভিযোগও আনা হয়েছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷

গ্রিস হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন হাজারো অভিবাসী৷ তেমনই একটি দল তুরস্ক থেকে ইটালি যাচ্ছিল৷ পশ্চিম গ্রিসে এসে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে অভিবাসী নৌকাটি৷ মঙ্গলবার গ্রিস উপূকলরক্ষী বাহিনী জানায়, এই ঘটনায় ইরাক এবং সিরিয়ার দুই ব্যক্তিকে মানবপাচারের অভিযোগে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে৷

ইরাক, সিরিয়া এবং ইরানের অভিবাসীরা ওই নৌকায় ছিলেন৷ নৌকাটিতে ৫২ জন পুরুষ, নয় জন নারী এবং নয়টি শিশু ছিল৷অভিবাসী নৌকাটি উদ্ধারের পর সেটিকে গ্রিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে পাইলস বন্দরে পাঠানো হয়েছে৷ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এপি৷

গ্রিস ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার৷ যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচতে মধ্য প্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে ইউরোপে আসতে অভিবাসীদের অনেকে গ্রিসকে ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করেন৷ অভিবাসীদের অনেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে প্রবেশ করেন৷ কোনো কোনো সময় গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তে ইভরো নদীর কাছে ছোট দ্বীপগুলিতে আশ্রয় নেন তারা৷ এরপর নিয়মমাফিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন জানান স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে৷

সম্প্রতি গ্রিস অভিবাসীদের ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
সম্প্রতি গ্রিস অভিবাসীদের ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

অভিবাসী, শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে না গ্রিস, একাধিকবার এই অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত নিয়মিত খবর রয়েছে তাদের কাছে৷ পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর ২০২০ সাল থেকে শুরু করে শুধু গ্রিসে ৫৪০টি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে৷

আফগান শরণার্থীরাও মানবপাচারকারীদের থেকে রেহাই পাননি৷
আফগান শরণার্থীরাও মানবপাচারকারীদের থেকে রেহাই পাননি৷

পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসী সংকটের মাঝেই সক্রিয় হয়ে উঠছে মানবপাচার চক্র৷ এদের বেশিরভাগ গ্রিস হয়ে সরাসরি ইটালিতে প্রবেশ করার পরিকল্পনা নিয়ে রওনা দেয়৷ পরিস্থিতি সহায় না হলে অভিবাসীদের বিপদের মুখে ফেলে পালায় পাচারকারীরা, অনেক সময় পুলিশের হাতে ধরাও পড়ে৷

সম্প্রতি গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা অভিবাসীদের ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷ নজরদারির কড়াকড়ির মাঝেই একাধিক ‘পুশব্যাক’-এর অভিযোগও উঠেছে গ্রিসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে৷ যদিও সরকার বরাবর অভিবাসীদের অবৈধভাবে ফেরত পাঠানো ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা অস্বীকার করে আসছে৷ 

আরকেসি/কেএম(এপি, ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন