(ফাইল ছবি) বেলজিয়ামে আন্দোলনরত অনিয়মিত অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: Romy Arroyo Fernandez/NurPhoto
(ফাইল ছবি) বেলজিয়ামে আন্দোলনরত অনিয়মিত অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: Romy Arroyo Fernandez/NurPhoto

চলতি বছরে মার্চের শেষে আরও তিনটি নতুন ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) এবং একটি বহিষ্কার কেন্দ্র চালুর ঘোষণা করেছে বেলজিয়াম সরকার৷ এর ফলে নতুন ৫০০ট জায়গা যোগ হবে আটক কেন্দ্র গুলোতে৷ কয়েকটি অভিবাসন সংস্থা এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে৷

অনিয়মিত অভিবাসীদের আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে চায় বেলজিয়াম৷ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকার তিনটি নতুন আটক কেন্দ্র এবং একটি বহিষ্কার কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

 জোরপূর্বক অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোতে বিভিন্ন কেন্দ্রে আরও ৫০০ অভিবাসীকে রাখার মত জায়গা তৈরি করা হচ্ছে৷ বর্তমানে বেলজিয়ামের আটক কেন্দ্রগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৬৩৫৷ ২০২৯ সালের মধ্যে ধারণক্ষমতা ১১৪৫-এ নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার৷ 

 প্রস্তাবিত বহিষ্কার কেন্দ্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য রাখা হবে৷ এটি শীঘ্রই চালু হবে বলে জানিয়েছে বেলজিয়াম সরকার৷



অন্য তিনটি আটক কেন্দ্রের জন্য শুধুমাত্র দরপত্র প্রকাশিত হয়েছে৷ বেলজিয়ান সংবাদ মাধ্যম ভিআরটি এনডব্লিউএস জানিয়েছে, সরকার অনিয়মিত অভিবাসীদের ২০২৪ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বেলজিয়াম থেকে বিতারণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ করেছে৷

 এ সিদ্ধান্ত ‘মাইলস্টোন’

 বেলজিয়াম সরকারের অভিবাসন বিষয়ক স্টেট সচিব সামি মাহদি বলেন, ‘‘ অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ করা হয়েছে৷ ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে৷ অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে৷ দেশের ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কার নীতিতে একটি বিশাল মাইলফলক এই সিদ্ধান্ত৷’’  

বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতি বছর আনুমানিক ২৪ হাজার জন অভিবাসীকে বেলজিয়াম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়৷তবে তাদের মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন৷ জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন কেবলমাত্র সেইসব অভিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য যারা বেলজিয়ামে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এবং অপরাধমূলক কাজের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন৷

 এছাড়া উন্মুক্ত আটক কেন্দ্রের সংখ্যাও দ্বিগুণ করে ২৮ থেকে ৫৪ করার পরিকল্পনা করেছে বেলজিয়াম সরকার৷ এই কাঠামোগুলি বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলির জন্য সংরক্ষিত৷ সবগুলি প্রকল্প মিলিয়ে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ইউরো৷

সরকার ভুল পথে চলছে?

 বেলজিয়াম সরকারের ঘোষণায় অভিবাসন সংস্থাগুলি ক্ষোভপ্রকাশ করেছে৷ যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ‘আটক কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির কৌশলের মতো সিদ্ধান্তের ফলে সরকার ভুল পথে চলছে৷ আটক কেন্দ্রের জন্য এত বড় বাজেট অশোভনীয়৷’

 সরকারের অবস্থানের নিন্দা করেছে তারা৷ তাদের অভিযোগ, আটক কেন্দ্রগুলি অনেকটা কারাগারের মতো৷ এই জাতীয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বন্দিদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ অভিবাসীদের প্রতি, বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রতি তীর্যক, অপরাধমূলক ভাব ছড়িয়ে দিচ্ছে বেলজিয়াম প্রশাসন৷


বেলজিয়ামে সবুজ দলের সংসদ সদস্য ইমন মাউটকুইন টুইটারে পোস্ট করেন, ‘‘যাদের বেশিরভাগ কোনো অপরাধ করেননি, তাদের জন্য বদ্ধ কোনো আটক কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই৷ যারা কয়েক সপ্তাহ ধরে রাস্তায় ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন, আমি সেইসব আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জায়গা চাই৷’’

 

এমএইউ/আরকেসি









 

অন্যান্য প্রতিবেদন