ভূমধ্যসাগরে নৌকডুবির ঘটনায় এক অভিবাসী৷ তাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করে সি-ওয়াচ-থ্রি জাহাজ৷ ছবি: সি ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল
ভূমধ্যসাগরে নৌকডুবির ঘটনায় এক অভিবাসী৷ তাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করে সি-ওয়াচ-থ্রি জাহাজ৷ ছবি: সি ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল

সোমবার লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, নিখোঁজ আছেন আরো ১৪ জন৷ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷

সোমবার জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা আইওএম এক টুইটে জানিয়েছেন, ‘‘গতকাল (রোববার) লিবিয়ার সারমেনে ২০ অভিবাসীকে নিয়ে একটি কাঠের নৌকা ডুবে গেছে৷’’ সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চারটি মরদেহের পাশাপাশি দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে৷ 

আইওএম নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্পের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করতে গিয়ে ৪৭৫ জন মারা গেছেন৷ ২০১৪ সাল থেকে হিসাব করলে ১৪ হাজার অভিবাসী এই পথে প্রাণ হারিয়েছেন সাগরে ডুবে৷ 

ভূমধ্যসাগরে অনুসন্ধানকারী বেসরকারি সংস্থা অ্যালার্ম ফোন এক টুইট বার্তায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় নৌকাডুবির তথ্য তুলে ধরেছে৷ আট এপ্রিলের একটি ঘটনায় টিউনিশিয়ার উপকূলে চার জন মৃত্যুবরণ করার পাশাপাশি ছয় জন নিখোঁজ হয়েছেন৷ ৯ এপ্রিল লিবিয়ায় আরেকটি দুর্ঘটনায় মারা যান পাঁচজন, নিখোঁজ হন ১১ জন৷ একই দিনে টিউনিশিয়ায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন ও ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন৷ আর সবশেষ ১১ এপ্রিল মারা গেলেন চারজন, যেখানে নিখোঁজ আরো ১৪ জন৷ 

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে অ্যালার্ম ফোন বলেছে, ‘‘লিবিয়াতে অসংখ্য শরণার্থী সহিংসতার নিষ্ঠুর চক্রের ফাঁদে আটক পড়ে আছে৷’’

পড়ুন: লিবিয়া: অক্সফামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশিকে নির্যাতনের কাহিনি

সোমবার আইওএম সমুদ্রে অভিবাসীদের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের হালনাগাদ বার্তায় জানিয়েছে, ৩ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা ৪৯৭ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে বা যাত্রায় বাধা দিয়ে দেশটিতে নিয়ে এসেছে৷ 

সব মিলিয়ে চলতি বছর প্রায় চার হাজার অভিবাসীকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে এনেছে দেশটির উপকূলরক্ষীরা৷ আইওএম এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ৩২ হাজার ৪২৫ জনকে৷ গত বছর এই পথে ৮৯১ জন নিখোঁজ এবং ৬৬২ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে৷ 

উল্লেখ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আগত ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ইটালিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন৷ এই পথটি ‘সেন্ট্রাল মেডিটোরিনিয়ান রুট’ নামে পরিচিত৷ এসব অভিবাসীরা লিবিয়ায় মানবপাচারকারী ও কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে৷ লিবিয়ায় ‘অভিবাসীদের গণকবর’ থাকার তথ্য নিয়ে তদন্ত করছে জাতিসংঘও৷  

পড়ুন: ইটালি পৌঁছাতে কেন মরিয়া বাংলাদেশিরা

এফএস/এআই

 

অন্যান্য প্রতিবেদন