২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে এমানুয়েল ম্যাক্রঁর বিপরীতে লড়বেন মারিন লো পেন। ছবি: রয়টার্স
২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে এমানুয়েল ম্যাক্রঁর বিপরীতে লড়বেন মারিন লো পেন। ছবি: রয়টার্স

রোববার সন্ধ্যায় প্রথম দফা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই আতংক বেড়েছে ফ্রান্সে অবস্থানরত অভিবাসীদের৷ অভিবাসীবিরোধী কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএন দলের প্রার্থী মারিন লো পেন দ্বিতীয় দফায় লড়াইর মতো ভোট পাওয়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা৷

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে আছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। তবে ২০১৭ সালের মতোই এবার দ্বিতীয় দফায় তার বিরুদ্ধে লড়বেন অভিবাসীবিরোধী হিসেবে পরিচিত মারিন লো পেন৷ এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইনফোমাইগ্রেন্টসের কাছে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসীরা৷ 

২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছেন টিউনেশীয় অভিবাসী আলিয়াভ৷ তিনি একজন অনথিভুক্ত অভিবাসী৷ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে আলিয়া বলেন, “আমি মারিন লো পেনের মতো একজন প্রার্থীকে শুধু ভয়ই পেতে পারি৷ আমি তার নির্বাচনী ইশতেহারের সব নীতির বিস্তারিত জানি না৷ তবে এটি বুঝতে পারি যে তিনি ফ্রান্সের মাটিতে তেমন কোন অভিবাসী চান না৷’’

আলিয়া যোগ করেন, ‘‘মারিন লো পেন বেশ কিছু দেশের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিতে চান৷ এটা আমাদের জন্য সত্যিই বিপজ্জনক৷’’

রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে ব্যর্থ হয়ে ফরাসি ভূখন্ড ত্যাগ করার (ওকিউটিএফ) নোটিশ পেয়েছেন আলিয়া৷ মারিন লো পেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে দ্রুতই ফরাসি ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি৷ 


৫ ফেব্রুয়ারি এক বক্তব্যে মারিন লো পেন বলেছেন, “আমি ২৪ এপ্রিল ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলে প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হবে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সমস্যা দূর করা। যার মধ্যে সবার আগে রয়েছে অনথিভুক্ত বিদেশিদের ফ্রান্স থেকে বহিষ্কার করা৷’’

‘ম্যাক্রোঁ, লো পেনের মতো বর্ণবাদী নন’

আলিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয় এমানুয়েল ম্যাক্রঁ পুনঃনির্বাচিত হলে তিনি কি আশ্বস্ত হবেন? 

আলিয়া উত্তর দেন, ‘‘সত্যি বলতে অতো খুশির সংবাদ না৷ ম্যাক্রঁ নির্বাচিত হলেও যথেষ্ট ভয়ের কারণ আছে৷ বিগত পাঁচ বছরে তার সরকার আমার মতো অনথিভুক্ত অনেক অভিবাসীদের বহিষ্কার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে৷ এসব অভিবাসীরা ফ্রান্সের কোনো ক্ষতি করেনি৷ তারা বৈধতা পেয়ে ফরাসি সমাজে একীভূত হতে চেয়েছিল৷ কিন্তু তাদেরকে থাকার অনুমতি দেয়া হয় নি৷’’


তবে এই টিউনেশীয় মনে করেন, এমানুয়েল ম্যাক্রঁ মারিন লো পেনের মত বর্ণবাদী নন৷ তবে মাক্রঁ ক্ষমতায় এসে অভিবাসন আইন কঠোর করতে পারেন সেই ভয় তার৷ কারণ বেশ কয়েকটি বক্তব্যে ম্যাক্রঁ অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন৷ আলিয়া বলেন, “আসলে এই দুই প্রার্থীই আমার কাছে ভয়ের কারণ৷’’

‘লো পেন নির্বাচিত হবেন না’

অনিয়মিত পথে কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ফ্রান্সে এসেছিলেন সেনেগালীয় অভিবাসী ইস*। তিনি মনে করেন, কট্টর ডানপন্থি মারিন লো পেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারবেন না৷ 

ইস জোর দিয়ে বলেন, “মারিন লো পেন জিততে পারবেন না৷ আমি তার নির্বাচনি ইশতেহার সম্পর্কে জানি৷ তিনি অভিবাসীদের ফরাসি জাতীয়তার সুযোগ দেয়ার সুবিধা সীমিত করতে চান৷ তিনি শুধু ফরাসিদের জন্য সামাজিক সুবিধা সংরক্ষিত করতে চান৷’’ 

এই অভিবাসী আরও বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত ম্যাক্রঁ জিতবেন৷ মারিন লো পেন জিততে পারবেন না৷ নির্বাচনের পর তিনি তার শখের বিড়ালদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন৷ হা হা!’’

বেশ কয়েক বছর অনিয়মিত থাকার পরে ২০২১ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সে বসবাসের বৈধতা পেয়েছেন ৩৫ বছর বয়সি সিসোকোও৷ তিনি আফ্রিকার দেশ মালি থেকে এসেছেন৷ 

তিনিও বিশ্বাস করেন, মারিন লো পেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না৷ তিনি চান ম্যাক্রঁই আবার ক্ষমতায় আসুক৷ 

সিসোকোও বলেন, “দুই প্রার্থীর মধ্যে, আমি ম্যাক্রোঁকে পছন্দ করি৷ তিনি কোনো প্রকার ঘৃণা ছড়ানো ছাড়াই বক্তৃতা করেন৷ ফ্রান্সে তার মতো একজনের প্রয়োজন, যিনি সব মানুষকে একত্রিত করতে পারেন৷’’


এমএইউ/এফএস


 

অন্যান্য প্রতিবেদন