মরক্কোর অনেক অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠাবে স্পেন | Photo: Picture Alliance / Pacific Press
মরক্কোর অনেক অনিয়মিত অভিবাসীকে ফেরত পাঠাবে স্পেন | Photo: Picture Alliance / Pacific Press

গত সপ্তাহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে স্পেন ও মরক্কো৷ এর আওতায় আরো অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আকাশপথে নতুন যোগাযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক নিশ্চিত করা হবে৷ বিনিময়ে আশ্রয়ের উপযুক্ত নন এমন সব মরক্কোর অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চায় স্পেন৷

স্পেনের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে আসা মরক্কোর নাগরিকদের মধ্যে যারা স্পেনে আশ্রয় পাওয়ার উপযুক্ত নন, তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মাদ্রিদ৷ অনলাইন সংবাদপত্র ইউরোপা প্রেসসহ একাধিক গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে৷ 

দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইতি ঘটিয়ে সম্প্রতি রাবিব ও মাদ্রিদ নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়৷ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মরক্কোর সঙ্গে নতুন সম্পর্ককে ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দিয়েছেন৷   

মরক্কোর শহর কাসাব্লাংকা এবং আগাডিরের সঙ্গে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে আকাশপথে দুটি নতুন বিমান যাতায়াত চালুর ঘোষণাও দেয়া হয়েছে৷ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং সহযোগিতা বাড়াতে এটি চালু হলেও অনিয়মিত পথে স্পেনে প্রবেশ করা মরক্কোর নাগরিকদের মধ্যে যারা আশ্রয় পাওয়ার উপযুক্ত নন, তাদেরও ফেরত পাঠানো হবে৷ 

ঠিক কতজনকে এভাবে ফেরত পাঠানো হবে তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি, তবে ইউরোপা প্রেস জানাচ্ছে, একটি রুট ব্যবহার করে সপ্তাহে আশিজন করে অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো যাবে৷ 

২০২১ সালে স্পেনে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মরক্কোর উপকূল থেকে, ৩০ শতাংশ আলজেরিয়া থেকে এবং বাকিরা সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যাত্রা করেছিলেন৷  

ইউরোপীয় কমিশন মরক্কো সরকারকে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা দিচ্ছে যাতে সেখান থেকে অভিবাসীদের ইউরোপমুখী যাত্রা বন্ধ করা যায়৷ 

তবে, বছরখানেক আগে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতা চাওয়া এক নেতাকে স্পেনে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দিলে রাবাতের সঙ্গে মাদ্রিদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়৷ তখন মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা ইউরোপমুখী অভিবাসীদের আটকানো বন্ধ করে দেয়৷ ফলে হাজার হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে অনিয়মিত পথে স্পেনে প্রবেশ করে৷

সম্প্রতি স্পেন পশ্চিম সাহারায় স্বাধীনতার বদলে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার মরক্কোর পরিকল্পনায় সায় দিলে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আবারো গাঢ় হতে শুরু করে৷ 

তবে, পশ্চিম সাহারা নিয়ে স্পেনের নতুন এই অবস্থান অতীতের সম্পূর্ণ বিপরীত হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েছেন৷ স্পেনের বামপন্থিদের পাশাপাশি আলজেরিয়াও সানচেজের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ কেউ কেউ মনে করছেন, স্পেনের এই অবস্থানের কারনে পশ্চিম সাহারায় উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে৷ 

রাবাত এবং মাদ্রিদের মধ্যে নতুন সম্পর্কের ব্যাপকতা বুঝতে অবশ্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে৷ দেশ দুটোর বিভিন্ন প্রতিনিধি দল এই নিয়ে এখনো কাজ করছে৷ 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন