ভাগ্যবান বিজয়ী কয়েক বছর ধরে বেলজিয়ামের উত্তরে অবস্থিত জিব্রুগ শহরে বসবাস করে আসছেন। ছবি: পিক্সাবে
ভাগ্যবান বিজয়ী কয়েক বছর ধরে বেলজিয়ামের উত্তরে অবস্থিত জিব্রুগ শহরে বসবাস করে আসছেন। ছবি: পিক্সাবে

ইউরোপে আলোচিত লোটো লটারিতে জেতা আড়াই কোটি টাকা তুলতে পারছে না এক অভিবাসী। বেলজিয়ামে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন নি এই ভুক্তভগী অভিবাসী। বর্তমানে একজন আইনজীবীর সাহায্যে আইনিভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তিনি।

বেলজিয়ামের জিব্রুগ শহরে বসবাসরত একজন অনিয়মিত অভিবাসী “লটো’ নামে পরিচিত লটারির টিকেট কিনে আড়াই লাখ ইউরো অর্থাৎবাংলাদেমি টাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা সমমানের অর্থ জিতেছেন। 

কিন্তু এই ভাগ্যবান বিজয়ী বেলজিয়ামে একজন অনিয়মিত অভিবাসী। লটারির অংক অনেক বড় হওয়ায় তিনি যেই তামাকের দোকান (যে দোকান থেকে লটারি কেনা হয়) থেকে লটারি জিতেছিলেন তারা তাকে নগদ অর্থ দিতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে তিনি বেলজিয়ামের জাতীয় লটারি বিষয়ক দপ্তরে যোগাযোগ করতে বাধ্য হোন। 

এর আগে উক্ত অভিবাসী তার প্রাপ্য অর্থ তুলতে তার তিন জন বৈধ অভিবাসী বন্ধুকে লটারিটি দিয়ে পাঠিয়েছিলেন যাতে করে তাদেরকে চেক দেয়া হয় অথবা ব্যংক একাউন্টে টাকা দেয়া হয়। 

কিন্তু পরিকল্পনা সব সময় বাস্তবা হয় না। উল্টো তিন অভিবাসীকে লটারিটি কারো থেকে ছিনতাই বা চুরি করেছে সন্দেহে আটক করে স্থানীয় ব্রুগস পুলিশ।  

বেলজিয়াম সংবাদ মাধ্যম সোয়ার ম্যাগ জানিয়েছে, এই ঘটনার পর উক্ত বিজয়ী একজন আইনজীবীকে নিয়ে তার বন্ধুদের মুক্ত করতে যান। তিনি ও তার আইনজীবী ব্রুগেস শহরের দায়িত্বরত পুলিশকে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। 

এখন সবার মনে প্রশ্ন একটাই প্রশ্ন: কীভাবে এই অভিবাসী তার প্রাপ্য অর্থ তুলবেন? কারণ কর্তৃপক্ষের দেয়া ব্যাংক চেকটি নগদ করতে উক্ত অভিবাসীর নিজের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। কিন্তু বেলজিয়ামে বৈধ অভিবাসী না হলে বৈধভাবে কেউ ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে না । 

আপাতত আইনজীবীসহ বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যে একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন লটারি বিজয়ী এই ভাগ্যবান। কোন সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরো অর্থটি জাতীয় লটারি দপ্তের জন্য কোষাগারে জমা থাকবে। 

নিরাপত্তাজনিত কারণে লটারি জেতা ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ৷

ফ্রান্সেও পাঁচ কোটি টাকা জিতেছিলেন এক অনিয়মিত অভিবাসী 

অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের লটারি জেতার খবর ইউরোপে এটিই প্রথম নয়। 

২০২১ সালের নভম্বরে ফ্রান্স মঁপোলিয়ে শহরে বসবাসরত এক আলজেরীয় অভিবাসী পাঁচ লাখ ইউরো বা পাঁচ কোটি টাকা সমমানের অর্থ জিতেছিলেন। 

সেই সময়ে যেই তাবাক দোকান থেকে তিনি লটারি কিনেছিলেন তারা এটি বিশ্বাস করে নি। দোকানদার ভেবেছিলেন লটারিতে কোন সমস্যা আছে। পরবর্তীতে তিনি ফরাসি লটারি কর্তৃপক্ষ বা এফডিজি কে ফোন করলে তারা নিশ্চিত করে এই ব্যক্তি আসলেই এত টাকা জিতেছেন। 

সংবাদ মাধ্যম মিদি লিভ জানিয়েছিল, বিজয়ী ব্যক্তি লটারিটি চুরি হবে ভেবে সেসময় আর কিছু না জানিয়ে দ্রুত উক্ত তাবাক দোকান ত্যাগ করেছিলেন। 

পরবর্তীতে অনিয়মিত পরিস্থিতে থাকা উক্ত আলজেরীয় অভিবাসী কীভাবে লটারির পুরো টাকা নগদ করেছলেন সেটি কাউকে জানাননি। তবে ২০ বছর বয়সি ঐ তরুণ পুরো টাকা বুঝে পেয়েছিলেন। 

ফ্রান্সে অনিয়মিত হলেও বিভিন্ন ভাবে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়। অনিয়মিত পরিস্থিতে থাকা এই তরুণ লটারি পাওয়ার আগে খুব কষ্টে দিন পার করছিলেন। 


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন