ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে পৌঁছার চেষ্টা করে থাকেন৷  ফটো: গারেথ ফুলার/পিএ ওয়ার/পিকচার অ্যালায়েন্স৷
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে পৌঁছার চেষ্টা করে থাকেন৷ ফটো: গারেথ ফুলার/পিএ ওয়ার/পিকচার অ্যালায়েন্স৷

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশকে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা পাঠাবে যুক্তরাজ্য৷ এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ৷

তবে আশ্রয়প্রার্থীদের এভাবে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর এমন সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো৷  

যুক্তরাজ্য সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার জন্য রুয়ান্ডাকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেবে যুক্তরাজ্য৷ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘চুক্তির আওতায় সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি অভিবাসী, আশ্রয়াপ্রার্থীদের আগ্রহ অনুযায়ী তাদের ক্ষমতায়নও করা হবে৷ প্রয়োজনে তারা রুয়ান্ডাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যেও বেছে নিতে পারবেন৷’’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশটির পার্লামেন্টকে বলেছেন, অনিয়মিত উপায়ে অভিবাসন ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নতুন বৈশ্বিক মানদণ্ড হয়ে উঠবে৷

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে জাসিংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, এ পদক্ষেপ আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা প্রদানের বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর মতো৷ 


সংস্থাটির অ্যাসিস্টেন্ট হাই কমিশনার ফর প্রটেকশন গিলিয়ান ট্রিগু বলেন, ‘‘আশ্রয়প্রার্থীদের এভাবে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রিফিউজি কনভেনশনের নীতিমালা বিরোধী৷’’

রুয়ান্ডাতে বতর্মানে অবস্থানরত বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশী সীমিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন দাবি করে সংস্থাটি জানায়, যদিও দেশটি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় দিচ্ছে, কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ আশ্রয়প্রার্থী সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকেন৷

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক এবং অর্থের অপচয়’ হিসেবে দেখছেন দেশটির বিরোধী রাজনীতিবিদরা৷  

লেবার পার্টির সংসদ সদস্য লুসি পল বলেন, ‘‘আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর এমন সিদ্ধান্তে হয়তোবা কিছু কিছু কট্টর রাজনীতিবি খুশি হতে পারে, কিন্তু এ ধরনের পরিকল্পনা অভিবাসন সংকট সমাধানে খুব একটা সফল হবে না৷’’


তার মতে, ‘‘এই পরিকল্পনা অনেক ব্যয়বহুল এবং অনৈতিক৷’’

আরআর/এসিবি (এএফপি/ইউএনএইচসিআর) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন