সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে জার্মানি তিন লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে৷ ছবি: হ্যানিবাল হ্যান্সকে/গেটি ইমেজ
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে জার্মানি তিন লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে৷ ছবি: হ্যানিবাল হ্যান্সকে/গেটি ইমেজ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে অসংখ্য শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন জার্মানিসহ ইউরোপের একাধিক দেশে৷ সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ জার্মান নাগরিকও শরণার্থীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত৷ জার্মান পরিবহণমন্ত্রী ফলকার ভিসিং জানিয়েছেন, আগত শরণার্থীদের জন্য কোনো উচ্চসীমা ঠিক করেনি বার্লিন৷

ভিসিং জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য জার্মানিকে জোরদার প্রস্তুতি নিতে হবে৷ রুশ হামলার পর প্রায় ৫০ লাখ নাগরিক ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন৷ এর মধ্যে অনেকেই জার্মানিকে গন্তব্য হিসাবে বেছে নিয়েছেন৷

মন্ত্রী কী বলেছেন

নিও-লিবারাল মুক্তগণতন্ত্রী দলের মন্ত্রী ভিসিং রিডাকসিওন্সনেৎসভেক ডয়েচল্যান্ড গণমাধ্যম সংস্থাকে জানিয়েছেন, শরণার্থীদের উচ্চসীমা নির্ধারণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘ইউক্রেনের কোনো শরণার্থীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাবে না জার্মানি৷ এই প্রশ্নই ওঠে না৷’’ 

পোল্যান্ড থেকে শরণার্থীদের আনার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছে জার্মানি৷ ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সিংহভাগই পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন৷ তার কথায়, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে ইউক্রেনের শরণার্থীদের দ্রুত জার্মানিতে দেয়া যায়৷ বার্লিনসহ একাধিক জায়গায় এই সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে৷’’ 

যুদ্ধ শুরুর সময় শরণার্থীদের যে ভিড় জার্মানিতে ছিল, তা এখন আর নেই, জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী৷ শুরুর দিকে দৈনিক আট হাজার ২০০ জন শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নিতে এসেছিলেন৷ এখন সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজারের কাছাকাছি৷ তবে সংখ্যাটা বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন ভিসিং৷ ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে জার্মানিতে ফের শরণার্থী আসার আশঙ্কা থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে প্রশাসন চাপ দেবে, জানান মন্ত্রী৷

তিনি বলেন, ‘‘পরিকাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করছে জার্মানি৷ কিন্তু যুদ্ধ নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়৷ যে কোনো সময় শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে৷ আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে৷ ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা যাতে জার্মানিতে আশ্রয় পেতে পারেন, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে৷’’

পোল্যান্ডের উপর মারাত্মক চাপ পড়ছে বলেও উল্লেখ করেছেন জার্মান পরিবহণমন্ত্রী৷ ওয়ারশতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় তিন লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী

জার্মানির নাগরিকরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে সনটাগসসাইটুং পত্রিকার সমীক্ষা বলছে, দুই-তৃতীয়াংশ জার্মান নাগরিক ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সাহায্য করছে বা শরণার্থীদের সাহায্য করেন, এমন মানুষকে চেনেন৷ 

৪৪ শতাংশই নিজে সাহায্য করছেন৷ কেউ আর্থিক সাহায্য করছেন, কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিচ্ছেন, কেউ শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছেন৷ ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কাউকে না কাউকে চেনেন, যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন৷ ৩০ শতাংশ মানুষ এ জাতীয় কাজে সক্রিয় নন৷

জার্মান পুলিশের দাবি, প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আশ্রয় দেয়া হয়েছে৷

আরকেসি/এআই (এএফপি, কেএনএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন