ইটালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের রোচেলা ইওনিকা বন্দরে অভিবাসীদের নৌকা ৷ ছবি: ফ্লাভিয়া কালামিনিসি/আর্কাইভ/আনসা
ইটালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের রোচেলা ইওনিকা বন্দরে অভিবাসীদের নৌকা ৷ ছবি: ফ্লাভিয়া কালামিনিসি/আর্কাইভ/আনসা

বহুত্ববাদ নিয়ে কাজ করা শিক্ষামূলক সংগঠন আইএসএমইউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৫৬ হাজার জন ব্যক্তি ইটালিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন৷ ২০২০ সালের আশ্রয়প্রার্থীদের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ৷ সেবছর কোভিড মহামারির কারণে ইটালিতে আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা কমেছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷

২০২০ সালে ইটালিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদনের সংখ্যা অনেকটা কমে গিয়েছিল৷ মহামারির প্রভাব কমতে শুরু করায় ইউরোপের দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যাটা বাড়তে শুরু করে৷ আইএসএমইউ-র রিপোর্ট বলছে, ২০২০ সালে ইটালিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন ২৭ হাজার জন৷ সেখানে ২০২১ সালে সংখ্যাটা ৫৬ হাজার, অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ৷

 ২০২১ সালে আফগান আশ্রয়প্রার্থী, বিশেষ করে নাবালক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে৷ আশ্রয়প্রার্থীদের পাঁচভাগের একভাগই নাবালক৷ আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে তিন হাজার ২৫৭ জন সঙ্গীহীন নাবালক, আট হাজার ৩১২ জনের ক্ষেত্রে সঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন৷

 ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরই ইটালিতে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে৷ গতবছর ছয় হাজার আফগান শরণার্থী ইটালিতে আশ্রয় চেয়েছেন৷ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে চলতি বছর ছয় হাজার ৭০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপের দেশ ইটালিতে পৌঁছেছেন৷

 ইটালিতে ইউক্রেনীয়দের কী অবস্থা

ইউক্রেনের কতজন শরণার্থী ইটালিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন সেই সংখ্যাটা এখনও পর্যন্ত আইএসএমইউ জানায়নি৷ তবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় মূলত রোমানিয়া, মলডোভা, পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরিতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ 

 আইএসএমইউ জানিয়েছে, ৯০ দিনের জন্য যে কোনো শেঙ্গেন এলাকায় থাকতে পারবেন ইউক্রেনীয়রা৷ তাই মনে করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশে ইউক্রেনীয় শরণার্থীর সংখ্যাটা বাড়তে শুরু করবে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ এপ্রিলে পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে ইটালিতে আসা শরণার্থীর সংখ্যা ৯১ হাজার ১৩৭ জন৷ এদের মধ্যে ৪৭ হাজার ১১২ জন মহিলা রয়েছেন, পুরুষের সংখ্যা ১০ হাজার ২২৯ জন৷ সংকটের পরিস্থিতিতে ইটালিতে পৌঁছেছে ৩৩ হাজার ৭৯৬টি ইউক্রেনীয় শিশু৷

আরকেসি/এআই (আনসা, এএফপি) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন