এভ্রোস নদীর গ্রিক প্রান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে গ্রিক সৈন্যদের টহল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
এভ্রোস নদীর গ্রিক প্রান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে গ্রিক সৈন্যদের টহল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

আবারও অভিবাসীদের কয়েকটি দল গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে অবস্থিত এভ্রোস নদীর ছোট একটি দ্বীপে আটকা পড়েছে। এনজিও অ্যালার্ম ফোন জানিয়েছে, তারা একটি দলের সাথে কথা বলেছে যেখানে ৩৭ জন লোক আটকা পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এনজিওগুলো অনেক ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার পরেও এসব অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা বিরল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যবর্তী দিদিমোটিচোর কাছে এভ্রোস নদীর একটি দ্বীপে বেশ কয়েক দিন ধরে আটকে আছে ৩৭ জন অভিবাসন প্রত্যাশী। তারা ১৮ এপ্রিল থেকে সেখানে অবস্থান করে আসছেন। তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য এখনও অস্পষ্ট।

গ্রিক কাউন্সিল ফর রিফিউজিস (সিজিআর) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, 

গ্রিক কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা এসব অভিবাসীদের সনাক্ত করতে পারেনি। এক্ষেত্রে কারণ হিসেবে বলা হয় অভিবাসী দলটির সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

পড়ুন>>গ্রিক-তুর্কি সীমান্তে অভিবাসীর মৃত দেহ উদ্ধার

তবে, টুইটারে অভিবাসন ও অধিকার কর্মীদের নেটওয়ার্ক ‘এলার্ম ফোন’ লিখেছে, “অভিবাসী দলটিতে থাকা বেশ কয়েক জন লোক অসুস্থ এবং তাদের মধ্যে একজন জ্ঞান হারিয়েছে। সেখানে থাকা একজন নারী অভিবাসীর দ্রুত কিডনী ডায়ালাইসিসের চিকিৎসার প্রয়োজন।”

এলার্ম ফোনকে অভিবাসীরা ফোনে আরও জানায়, সেখানে থাকা একটি শিশু প্রচণ্ড অসুস্থ। শিশুটির জন্য দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স দরকার। নাইলে শিশুটি মারা যাবে।”

এভ্রোস নদীর মাঝে দ্বীপের ঠান্ডা আবহাওয়া এবং বৃষ্টি অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। 

অ্যালার্ম ফোনের দেয়া তথ্য অনুসারে, অভিবাসী দলটির খাদ্যের মজুদেরও অভাব রয়েছে।

অপরদিকে, গ্রিক কাউন্সিল ফর রিফিউজিস অন্য একটি দ্বিতীয় অভিবাসী দল আটকে পড়াই তথ্য দিয়েছে। অভিবাসীদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজিআর জানিয়েছে, “অভিবাসীদের এই দলটিতে ১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী বা নাবালকসহ মোট ৪৬ জন এভ্রোস নদীর মধ্যবর্তী একটি দ্বীপে আটকা পড়েছে।”

পড়ুন>>অবৈধ ‘পুশব্যাকের’ ঘটনা লুকিয়েছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা: প্রতিবেদন

অভিবাসন সংস্থাটি এএফপিকে জানিয়েছে, সোমবার তারা গ্রিক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অভিবাসীদের সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

এনজিওগুলোর পক্ষে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করা অসম্ভব। তাই এসব তথ্য এভ্রোস থেকে পাঠানো ছবি, ভিডিও ও সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়েছে। 

এলার্ম ফোন জানিয়েছে, আটকে পড়া অভিবাসীরা তুরস্কে পুশব্যাক হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ৩৭ জন অভিবাসী দলটির পাঠানো বিভিন্ন ভিডিও তে দেখা গেছে গ্রিক উপকূল থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি অভিবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। এরকম বেশ কয়েকবার এসব ব্যক্তিদের উপস্থিতি সনাক্ত করেছে অভিবাসীরা। রাতে অভিবাসীদের দলটি তুর্কি দিক থেকে গুলির শব্দও শুনেছিল বলে জানা গেছে।

পড়ুন>>বাংলাদেশ, পাকিস্তানের অনিয়মিত অভিবাসীদের আলোকচিত্রে গ্রিসের প্রবাস জীবন

অধিকাংশক্ষেত্রে এরকম পরিস্থিতি অভিবাসীদের বিভ্রান্ত করে। টুইটারে এলার্ম ফোন জানিয়েছে, আমাদের কাছে পাঠানো ভিডিওতে আমরা কিছু ছোট নৌকাকে দ্বীপের দিকে যেতে দেখতে পেয়েছি। আমরা আশা করি তারা অভিবাসীদের উদ্ধার করতে আসবে, আক্রমণ করতে নয়।”

এনজিও এবং মিডিয়াগুলোর নিয়মিত তদন্ত সত্ত্বেও গ্রিক কর্তৃপক্ষ সবসময় "পুশব্যাক" এর মতো অবৈধ অনুশীলনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত মাসে গ্রিক ট্রান্সপারেন্সি অথরিটির দেয়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে এএফপি জানায়, ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে করা তদন্তে এই জাতীয় কোন অনুশীলন প্রমাণিত হয়নি। 

কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং গ্রিক কাউন্সিল ফর রিফিউজিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও এমন প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে এটি সম্পূর্ণ নয় এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।


এমএইউ/এআই


 

অন্যান্য প্রতিবেদন